Home খেলাধুলা আইপিএল: টিভি রেটিংয়ে বড় ধস, দর্শকসংখ্যা কমেছে ২৬ শতাংশ!

আইপিএল: টিভি রেটিংয়ে বড় ধস, দর্শকসংখ্যা কমেছে ২৬ শতাংশ!

5

স্পোর্টস ডেস্ক।।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) দীর্ঘকাল ধরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তারকাখচিত দল, ব্লকবাস্টার বিনোদন এবং অভাবনীয় বাণিজ্যিক সাফল্যের মাধ্যমে এটি বিশ্ব ক্রিকেটের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের রুচি ও অভ্যাসের পরিবর্তনের প্রভাব এবার আইপিএল ২০২৬-এর দর্শক সংখ্যার ওপর পড়তে শুরু করেছে। বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হিসেবে আইপিএল-এর মর্যাদা এখনও অটুট থাকলেও বিসিসিআই-এর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দর্শক সম্পৃক্ততা কমে যাওয়া।

চলমান ১৯তম আসরের দর্শক সংখ্যার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান একটি উল্লেখযোগ্য নিম্নমুখী প্রবণতা নির্দেশ করছে। বার্ক (বিএআরসি) ইন্ডিয়া এবং ট্যাম (টিএএম) স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, আইপিএল ২০২৬-এর প্রথমার্ধে টিভি রেটিং ১৮.৮ শতাংশ এবং গড় দর্শক সংখ্যা ২৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

টুর্নামেন্টের বর্তমান পর্যায়ে দর্শকদের এই অনাগ্রহ নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। অথচ আইপিএল-এ বিনোদন বা তারকা দ্যুতির কোনো অভাব নেই।

বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মার মতো দেশীয় মহাতারকাদের পাশাপাশি প্যাট কামিন্স ও জস বাটলারের মতো আন্তর্জাতিক তারকারাও মাঠ মাতাচ্ছেন, যা প্রতিটি ম্যাচকেই আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য যথেষ্ট। এমনকি ক্রিকেটের মানও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে; এখন ২০০-এর বেশি রানও এই প্রতিযোগিতামূলক লিগে নিরাপদ নয়। এই সবকিছুর পরেও দর্শক সংখ্যা কমে যাওয়াটা বেশ রহস্যজনক।

দর্শক সংখ্যা কমার পেছনে সম্ভাব্য কিছু কারণ বিশ্লেষণ করেছে ‘গালফ নিউজ’। তাদের মতে আইপিএল নিয়ে দর্শক আগ্রহ কমে যাওয়ার বড় কারণ হচ্ছে একঘেয়েমি বা ক্লান্তি। দীর্ঘ দুই দশক ধরে আইপিএল ক্রিকেটের বাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে। কিন্তু বছরের পর বছর একই ফরম্যাট, ঠাসা সূচি এবং পরিচিত আবহের কারণে দর্শকদের মধ্যে এক ধরণের ক্লান্তি চলে আসতে পারে, যা তাদের আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে লিগ পর্বের ম্যাচগুলো এখন অনেকের কাছে রুটিনমাফিক মনে হয়, যা প্লে-অফ বা আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতো দেখার তাগিদ তৈরি করতে পারছে না।

এরপর আছে ‘রিয়েল মানি গেমিং’ নিষিদ্ধ হওয়া। ভারত সরকার রিয়েল মানি গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে জুয়া হিসেবে গণ্য করে নিষিদ্ধ করেছে। এর ফলে ড্রিম-ইলেভেন বা মাই-ইলেভেন সার্কেল-এর মতো অ্যাপগুলো আর আইপিএলের সঙ্গে নেই। এই অ্যাপগুলো শুধু স্পনসর ছিল না, বরং ফ্যান্টাসি টিমের কারণে অনেক দর্শক প্রতিটি ম্যাচ খুঁটিয়ে দেখতেন। এই গেমিং ইকোসিস্টেমটি না থাকায় আইপিএল ২০২৬-এ দর্শকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অনেকটা কমে গেছে। বিজ্ঞাপন বিরতিতে দর্শকরা এখন অন্য চ্যানেলে চলে যাচ্ছেন, যা টিভি এনগেজমেন্টকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

আরেকটি কারণ হচ্ছে ডিজিটাল প্রতিযোগিতা ও খণ্ডিত দর্শক অভ্যাস। মানুষ এখন আর শুধু প্রথাগত টিভি সম্প্রচারের ওপর নির্ভর করে না। অনেকেই এখন হাইলাইটস, ছোট ক্লিপ বা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে খেলা দেখতে পছন্দ করেন।

এছাড়া ফুটবল লিগ, ই-স্পোর্টস এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ভিড়ে দর্শকদের মনোযোগ এখন অনেক বেশি বিভক্ত হয়ে গেছে। ফলে আইপিএল-এর মতো বড় পণ্যকেও এখন এক বিশাল প্রতিযোগিতামূলক বিনোদন জগতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।