Home জাতীয় মন্ত্রিসভার পরিধি বাড়ছে, আলোচনায় বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা

মন্ত্রিসভার পরিধি বাড়ছে, আলোচনায় বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা

85
ওপর থেকে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুহুল কবির রিজভী, জয়নুল আবদিন ফারুক, শামসুজ্জামান দুদু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মওদুদ আলমগীর পাভেল, আজিজুল বারী হেলাল, হাবিবুন নবী খান সোহেল এবং মাহাদী আমিন।

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।



প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মন্ত্রিসভার আকার যেকোনো সময় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে রদবদল হতে পারে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে। সরকার ও বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্রের সঙ্গে আলাপ করে এমন ইঙ্গিত মিলেছে।

সরকারের জনবান্ধব বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনের কাজের গতি বাড়াতে ঈদুল আজহার পর বাজেট অধিবেশন শেষে এই সম্প্রসারণ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য হচ্ছে যেসব মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বেশি, সেখানে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসা এবং একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব একটি মাত্র দপ্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।

সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় কয়েকজনকে উপমন্ত্রী হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসন থেকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।

আলোচনায় যাদের নাম
নতুন মন্ত্রিসভায় কয়েকজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, পোড় খাওয়া রাজনীতিক এবং দুই-একজন তরুণ মুখ দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় আসছে।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং কাজের ধীরগতির বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। অবিলম্বে এটি কাটিয়ে উঠতে চায় সরকার।

বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের আভাস মিলেছে। তিনজন মন্ত্রীর দায়িত্ব কমানোর পাশাপাশি একজন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তন হতে পারে।

ইতোমধ্যে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা একজন মন্ত্রী এবং দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আরেক মন্ত্রীর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে তাদের দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়ার আলোচনা চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে বর্ধিত মন্ত্রিসভায় দেখা যাবে। এক্ষেত্রে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে।

বর্তমান মন্ত্রিসভায় নোয়াখালী অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের নামও আলোচনায় রয়েছে। নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে তিনি ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নামও আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও দোহার-নবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক, কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছেন খুলনার আজিজুল বারী হেলাল, ফরিদপুরের শহিদুল ইসলাম বাবুল ও সিরাজগঞ্জের আমিরুল ইসলাম খান আলিমের মতো নেতারা।

মন্ত্রিসভার বাইরে সংসদ উপনেতা হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির প্রবীণ দুই সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আব্দুল মঈন খানের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে দুজন সদস্য বাড়তে পারে।

টেকনোক্র্যাট কোটা
টেকনোক্র্যাট কোটায় আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের মতো ত্যাগী নেতারা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। বর্ধিত মন্ত্রিসভায় তাকেও দেখা যেতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেলের নাম আলোচনায় রয়েছে। বগুড়ার এই নেতা প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীকে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কবে নাগাদ নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নাম ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি। তবে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি। এটি দলের চেয়ারম্যান ও সরকারপ্রধান তারেক রহমান ভালো বলতে পারবেন। তিনি কখন কাকে নেবেন, কোথায় দায়িত্ব দেবেন; সেটি সম্পূর্ণ তার এখতিয়ার।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য বলেন, ‘এটি একান্তই প্রধানমন্ত্রীর বিষয়। তিনি যদি মনে করেন বর্তমান সদস্যদের নিয়ে সরকার পরিচালনা করবেন, তাহলে সেটিই করবেন। আবার কাজের সুবিধার্থে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর প্রয়োজন মনে করলে সেটিও করতে পারেন।’

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী। তবে কোনো উপমন্ত্রী নেই।