অবৈধ সম্পদ অর্জন ও জাল শিক্ষক নিবন্ধনে চাকরি
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন মামলায় ঝিনাইদহ জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি রোকনুজ্জামান বিশ্বাস রানু এবং কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়েছে। সম্প্রতি ঝিনাইদহ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন অফিস এই চার্জশিট প্রদান করে।
এছাড়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জালিয়াতির একটি মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের বোন ফাতেমা খাতুন ও তাকে জাল সার্টিফিকেটে নিয়োগ দেওয়ার দায়ে সরকারি মাহতাব উদ্দীন কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ মণ্ডলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে দুদক।
দুদক ও ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালত সূত্রে জানা গেছে, শহরের আরাপপুর সিটি কলেজ পাড়ার বজলুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে ঝিনাইদহ জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি রোকনুজ্জামান বিশ্বাস রানু সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেন অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্ত শেষে ২০০৪ সালের ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা তৎসহ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ধারামতে ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ২০২৫ সালে চার্জশিট দাখিল করেন, যার মামলা নং দুদক-১ ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল ২/২২।
এদিকে ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার আড়পাড়া গ্রামের হাফিজ উদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর বিরুদ্ধে কালো টাকা সাদা করা ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পান। তদন্ত কর্মকর্তা ২০০৪ সালের ২৭(১) তৎসহ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ধারামতে ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন, যার মামলা নং স্পেশাল ৩/২১। মামলাটি গত ৮ এপ্রিল ১৩২৪ নং স্মারকে বিচারের জন্য যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদে চাকরি করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তিনি এই জাল সনদ দেখিয়ে তিনটি কলেজে চাকরি করেছেন। শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আব্দুল লতিফের কন্যা ফাতেমা খাতুনের স্থলে নিজের নাম বসিয়ে কালীগঞ্জের ইয়াকুব আলীর কন্যা ফাতেমা খাতুন ২০১২ সালের ৮ম নিবন্ধন পরীক্ষার জাল সনদ তৈরি করেন। নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আসল ফাতেমা খাতুনের রেজি নং হচ্ছে ২০১২৮২৩০১৩। অন্যদিকে কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক ফাতেমা খাতুনের রেজি নং হচ্ছে ২২১২৮২১২০২।
কালীগঞ্জের ইয়াকুব আলীর কন্যা ও স্থানীয় সাবেক এমপি আনারের বোন ফাতেমা খাতুন ২০১২ সালের ৮ম নিবন্ধন পরীক্ষার জাল সনদ নিয়ে প্রথমে যশোরের একটি কলেজে চাকরি করতেন। সেখান থেকে ইনডেক্স নিয়ে কালীগঞ্জ শহীদ নুর আলী কলেজে যোগদান করেন। এই জাল সনদের ভিত্তিতেই তিনি সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করতে থাকেন। কালীগঞ্জের মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজটি সরকারিকরণের প্রক্রিয়া শুরু হলে তিনি তড়িঘড়ি করে সেখানে যোগদান করেন। ফাতেমা খাতুনকে জাল সনদে চাকরি দেওয়ার দায়ে তৎকালীন সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ মণ্ডলকেও দুদকের মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি রোকনুজ্জামান বিশ্বাস রানু এবং কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজু জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কল্পিত অভিযোগ উত্থাপন করে মামলা ও চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে।
রোকনুজ্জামান বিশ্বাস রানু বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগের এমপি তাহজীব আলম সমি সিদ্দিকী তার বিরুদ্ধে দুদক লেলিয়ে দিয়ে এই মামলা করতে সহায়তা করেন। অন্যদিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজু বলেছেন তিনি আওয়ামী লীগ নেতা হয়েও তার সরকারের আমলে দুইবার জেল খেটেছেন। তিনি দুদকের এই মামলা আইনগতভাবে মোকাবেলা করবেন বলেও জানান।
দুর্নীতি দমন কমিশন ঝিনাইদহ সমন্বিত অফিসের উপ-পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ রোববার বিকালে জানান, তদন্ত শেষে মামলা তিনটির চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এখন বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারে রয়েছে।











































