Home আঞ্চলিক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ভিডিওকাণ্ডে বরখাস্ত হলেন সেই প্রধান শিক্ষক

ছাত্রীকে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ভিডিওকাণ্ডে বরখাস্ত হলেন সেই প্রধান শিক্ষক

9

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি।।

ছাত্রীকে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ভিডিওকাণ্ডে ভাইরাল হওয়া মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা এইচ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেই প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ডের আপিল এন্ড আর্বিট্রেশন কমিটি।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান গত ২৯ এপ্রিল বরখাস্তের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের চিঠি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে দিয়েছে।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মেহেরপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুর রহমানের আদালতে আত্মসমর্থন করে জামিনের আবেদন করে। বিচারক তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত কারাগারে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আতোয়ার আলী জানান, মামলার আলামত ফরেনসিক প্রতিবেদনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৯(১)/১০ ধারায় ওই শিক্ষার্থী গত ২৪ নভেম্বর সোমবার মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করেন। বিচারক আলী মাসুদ শেখ আবেদনটি আমলে নিয়ে মামলা নথিভুক্ত করতে গাংনী থানাকে নির্দেশ দিলে গত ২৮ নভেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

এদিকে শিক্ষা বোর্ডের বরখাস্তের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত আপিল এন্ড আর্বিট্রেশন কমিটির ৮৯তম সভার ৮৯(২) নং আলোচ্যসূচির ১২ (বার) নং ক্রমিকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মেহেরপুর জেলার গাংরী উপজেলাধীন এইচ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এর সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদ-কে চূড়ান্ত বরখাস্তকরণে অনুমতি প্রদানের জন্য আপিল এন্ড আর্বিট্রেশন কমিটির সভায় চূড়ান্ত বরখাস্তের আবেদন মঞ্জুর করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

ভুক্তভোগী মামলার এজাহারে দাবি করেছে, কাজিপুর গ্রামের প্রয়াত আফাজুদ্দিনের ছেলে প্রধান শিক্ষক মো. রাজু আহমেদ ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন তার অফিসে একা ডেকে নিয়ে নানা রকম প্রলোভনে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হাত দেয়। বাধা দিতে গেলে মুখ চেপে ধরে খুন করে ফেলার হুমকি দিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এভাবে ১০/১১/২০২৫ সাল পর্যন্ত দিনের পর দিন তাকে স্কুলের অফিস রুমসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করে।

এ ছাড়া রাজু আহমেদ তার মোবাইল ফোন থেকে তাকে কল করেন এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে যৌন হয়রানী করতে থাকে দিনের পর দিন। এভাবে আসামি তাকে কুষ্টিয়াতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কুষ্টিয়া শহরে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছে। শেষ ঘটনার তারিখ ও সময়ে বিয়ের কথা বলে তার অফিসে স্কুল ছুটির পরে ডেকে নিয়ে দরজা জানালা বন্ধ করে দিয়ে একাধিক বার ধর্ষণ করে।

নিরুপায় হয়ে শিক্ষক রাজু আহমেদ-এর বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৯(১)/১০ ধারায় মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলায় তিনি ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীর আত্মীয়-স্বজনরা জানিয়েছেন, তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করায় তারা খুশি। তবে বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদ ও তার সহযোগীরা যাতে তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না করতে পারে বিষয়টি প্রশাসনকে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদ কারাগারে থাকার কারণে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গাংনীর এইচ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদকে চুড়ান্ত বরখাস্ত করেছে। বিষয়টি আমরা জেনেছি। পরবর্তী কার্যক্রম ওই স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া হবে।’

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের বিষয় আমরা জেনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান জানান, গত ২৯ এপ্রিল গাংনী এইচ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদকে বরখাস্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চিঠি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে দেওয়া হয়েছে।