কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পির আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মামলার ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ’ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় একটি ৩৬ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পরিস্থিতিতে পিরের দরবারে হামলা ও অগ্নিসংযোগ এবং হত্যার ঘটনা ঘটে।
গত শুক্রবার রাতে কয়েকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। শনিবার সকাল পর্যন্ত ভিডিও লিংকগুলো ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে থাকে। সকাল ৯টার দিকে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এরপর বেলা ১১টার দিকে পুলিশের একটি দল দরবার এলাকায় অবস্থান করছিল।
তবে পুলিশের উপস্থিতিতে দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শতাধিক মানুষ দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দরবার এলাকায় প্রবেশ করে এবং সেখানে হামলা চালায়।
এ সময় হামলাকারীরা পির আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। পরে পুলিশ শামীমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা শুরুর ৫ মিনিটের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।
পরে ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার (১২ এপ্রিল) দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর রাজাপাড়া ঈদগাহে বাদ আছর জানাজা শেষে পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর রাজাপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তবে এর আগে পির আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরের বড় ভাই ফজলুর রহমান ও মেজ ভাই গোলাম রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ’পরিবারের পক্ষ থেকে তারা এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনো মামলা করবেন না।’









































