শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি।।
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একটি কালভার্ট ১২ বছরেও সংস্কার না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী। ২০০০ সালের দিকে পৌরসভার অর্থায়নে কালভার্টটি নির্মিত হলেও এখন পর্যন্ত সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত ভোগান্তিতে পড়ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। বিপজ্জনক এ কালভার্র্টে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। অতি দ্রুত নতুন কালভার্ট নির্মাণ করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করে তোলার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, শৈলকুপা উপজেলা শহর থেকে আধা কিলোমিটার দূরত্বে পৌর এলাকার মধ্যপাড়ায় কুমার নদীর কোল ঘেঁষে খালের উপর রয়েছে কালভার্টটি। নদীর তীর ঘেঁষে হাজারও পবিবারের কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। কয়েক বছর ধরে সংকুচিত এই কালভার্টটির রেলিং ভেঙে গেছে। সেই সঙ্গে নিচের পিলারের ঢালাই ধসে গিয়ে রডগুলো ভেসে উঠেছে। কালভার্টটি যে কোনও সময় ভেঙ্গে নীচে পড়ে যেতে পারে। রাতের বেলা দূরের কথা দিনের বেলায়ও এই কালভার্টের উপর দিয়ে পথচারীদের যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কালভাটর্টি চালু অবস্থায় এক সময় প্রতিদিন যাতায়াত করতেন হাজারও পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ। এখন পায়ে হেঁটে কিছু মানুষ চলাচল করলেও সাইকেল ভ্যানসহ কোনও যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায় না। নদীর পাশ দিয়ে এই কালভার্টের উপর দিয়ে উপজেলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন হলেও দীর্ঘদিন অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় কালভার্টটির উভয় পাশের্^র সড়ক ঝোপ-ঝাড়ে ভরে গিয়ে একেবারেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। দেখে মনে হয় এ পথে কেউ কোনোদিন যাতায়াত করতো না। এ অবস্থায় এক হাজার পরিবারের কয়েক হাজার নারী পুরুষ বিপাকে পড়েছেন। এখানে নতুন কালভার্ট নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। পৌর এলাকার মধ্য পাড়ার নরেন্দ্রনাথ সাহা জানান, কালভার্টটি তো অনেক আগে নির্মাণ করা হয়েছে, যার কারণে এটি ভেঙে এখন নাজেহাল অবস্থা। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাতায়াতে সমস্যা হয়। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা আসা-যাওয়া করেন। এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারিভাবে বরাদ্দ কবে হয় তা সঠিক জানি না। কালভার্টটির জন্য আমরা নানা সমস্যার মধ্যে আছি।
মধ্যপাড়ায় বসবাসরত ভ্যান চালক আব্দুর রশিদ বলেন, আমাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা ছিল এটি। ১২ বছরের অধিক সময় কালভার্টটি ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে। এখন ভ্যান নিয়ে চলাচল করতে পারি না। অনেক পথ ঘুরে এখন শৈলকুপা শহরে যেতে হয়। আমরা এই কালভার্টটির কারণে কমপক্ষে ১ হাজার পরিবার অনেক কষ্টে আছি।
শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাহফুজুর রহমান বলেন, কালভার্টটির ব্যাপারে আমি কোনও অভিযোগ পাইনি। কালভার্টটি পরিদর্শন করে জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।











































