- মোসলেম উদ্দীন খান চুকনগর
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজরের পাশ্ববর্তী এলাকায় যশোরের কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা উইনিয়নের ভরত ভায়নার অবস্থিত ভরতের দেউল পর্যটকদের জন্য চুকনগর সদর হতে ৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে কোন ভদ্রানদীর তীরে গৌরীঘোনা ইউনিয়নের ভরতভায়না গ্রামে ভরতের দেউল অবস্থিত। জনশ্রুতি রয়েছে রাজা দশরথের দ্বিতীয় স্ত্রী রানী কৈকেয়ীর গর্ভজাত পুত্র ভরত রাজার নাম অনুসারে ভরতের দেউল নামকরণ করা হয়।
খুলনা ও যশোর জেলার সীমান্তে কেশবপুর উপজেলার ভদ্রা নদীর পশ্চিম তীরে ঐতিহাসিক ও প্রাচীন যুগের অনেক নিদর্শন নিয়ে ইতিহাস আর ঐতিহ্যের প্রতীক হিসাবে কালের সাক্ষী হয়ে প্রায় ১৮শ বছর আগে থেকে সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ভরত রাজার এই দেউল। অনেকটা পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের মতো দেখতে এই প্রতœতত্ত নিদর্শনটি। উপজেলা সদর থেকে ইঞ্জিন ভ্যান অথবা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল যোগে আনায়াসে পোঁছানো যায় এই দেউলে। অনুমান করা হয় ২য় শতকে এটি নির্মিত হয়েছে। ১৯২৩ সালের ১০ জানুয়ারী তৎকালীন সরকার এটাকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে। প্রতœতত্ত বিভাগ ১৯৮৪ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দেউলের খনন কাজ চালায়। খননের ফলে দেউলের পূর্ণ আবয়ব মানুষের দৃষ্টিতে আসে। বর্তমানে দৃশ্যমানেও যার উচ্চতা ৫০ ফুটের ওপরে। ২৬৬ মিটার পরিধি বিশিষ্ট পাদদেশ থেকে ক্রমাম্বয়ে ওপরের দিকে উঠে গেছে। এর প্রথম অংশে একটি মঞ্চ, তৃতীয় অংশে মূল মন্দির। খননের ফলে দেউলের ভীত থেকে চূড়া পর্যন্ত ৯৪ টি কক্ষ দেখা যায়। স্থাপনাটির চারিপাশে বর্ধিত আকারে ১২টি কক্ষ অনুমান করা যায়। বাকি ৮২টি কক্ষ ক্রমাম্বয়ে ওপরের দিকে উঠে গেছে। দেউলটির চূড়ায় চারটি কক্ষ এবং পাশে ৮টি কক্ষ রেয়েছে। খননকালের মধ্যে পোড়া মাটির তৈরী নারীর মুখ ম-ল দেবদেবীর নৃত্যের দৃশ্য সম্বলিত টেরাকোটার ভগ্নাংশ পাওয়া যায়। বাংলাদেশের এ যাবত প্রাপ্ত টেরাকোটার মধ্যে করা ইট আকৃতির। তাছাড়া নকসা করা ইট মাটির ডাবর পোড়া মাটির গহনার মৃর্তি পাওয়া যায়। এ অঞ্চলের অন্য কনো পুরার্কীতিতে এত বড় আকারের ইট ব্যবহৃত হয়নি। এসব নকশা করা ইট মাটির ডাবর, পোড়া মাটির গহনার মূর্তির ভগ্নাংশ সমূহ সাগরদাড়ী মধুপল্লীর প্রতœতত্ত্ব বিভাগে সংরক্ষিত রয়েছে। সরকারী উদ্দোগে ভরত রাজার দেউল হতে পারে বিভিন্ন মাত্রায় পর্যটন কেন্দ্র। এবিষয়ে খুলনা বিভাগীয় প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের আঞ্চলিক পরিচালক (আরডি) আফরোজা খান মিতা বলেন পূরাকীর্তি হিসাবে ঐ দেউলকে সরকারী ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সেনিটেসন ব্যবস্থা সহ দেউলকে পর্যটকদের আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার চিন্ত রয়েছে।










































