ঢাকা অফিস
ঈদুল ফিতরের পর বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে বড় ধরনের রদবদলের আভাস মিলেছে। দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে পরিচালিত হওয়া এসব সংগঠনকে নতুন নেতৃত্বে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে দলটি। সরকার পরিচালনার ব্যস্ততার মধ্যেও সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে ঈদের পর থেকেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে নির্বাচনের পর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পদে যেতে আগ্রহীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। পদপ্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে লবিং শুরু করেছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অনেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিজেদের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথাও তুলে ধরছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চালাচ্ছেন তারা।
নেতাকর্মীদের মতে, নির্ধারিত সময়ে নতুন কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় একদিকে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় অনেক পদবঞ্চিত কর্মী সংগঠন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। একই কমিটি দীর্ঘদিন থাকার ফলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও বাড়ছে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠন করা গেলে দল সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে এবং নির্বাচনে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি। সংসদ ও মন্ত্রিসভার দায়িত্বে যুক্ত হয়েছেন দলের মূল ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতা। ফলে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাদের সময় ও মনোযোগ কমে গেছে। এর ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রম কিছুটা থমকে গেছে। অবশ্য বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী অধিকাংশ সংগঠনের কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কোথাও তিন বছর, কোথাও পাঁচ বছর, আবার কোথাও এক যুগ একই কমিটি বহাল রয়েছে। এতে সংগঠনের কার্যক্রমে কার্যত স্থবিরতা তৈরি হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই মেয়াদোত্তীর্ণ। দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রতি তিন বছর পর নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যেও বাড়ছে হতাশা।
একই পরিস্থিতি মূল দল বিএনপিতেও। সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালের মার্চে। নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও এক দশকেও তা হয়নি। তবে এই সময়ে নির্বাহী কমিটিতে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুক্ত হয়েছে নতুন মুখ। কেউ পদোন্নতি পেয়েছেন, আবার কেউ দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন।
দলীয় নেতারা বলছেন, আপাতত সরকারের কার্যক্রম পরিচালনাই শীর্ষ নেতৃত্বের প্রধান অগ্রাধিকার। তাই চলতি বছর জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনের চিন্তা রয়েছে দলটির। সাম্প্রতিক এক বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর থেকেই অঙ্গসংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় দলীয় নেতারা সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন। তাদের মতে, দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে নির্বাচনে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো সুযোগ নিতে পারে। তাই নির্বাচন সামনে রেখে মূল দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোকে নতুন নেতৃত্বে পুনর্গঠন করাই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দলের জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার গঠনের পর আমরা নানা কাজে ব্যস্ত। সংসদীয় কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হওয়ার পর হয়তো সাংগঠনিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য জানান, আপাতত মূল দলের পুনর্গঠন বা জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা নেই। তবে অঙ্গসংগঠনের অনেক শীর্ষ নেতা এবং জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কেউ কেউ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদে গেছেন। এখন অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্বিন্যাসের সময় এসেছে। নীতিনির্ধারণী মহল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শিগ্গিরই কয়েকটি সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে।











































