Home আঞ্চলিক মহেশ্বরপাশায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর

মহেশ্বরপাশায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর

10

স্টাফ রিপোর্টার

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠালো নিষ্ঠুর স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ায়। এ ঘটনায় ভিকটিম থানায় মামলা করতে গেলে ওসি বলেন, “উপর লেভেলের ফোন আছে-আপনারা বিষয়টি মিমাংসা করে ফেলেন। মামলা নেয়া যাবে না”। ভিকটিমের ছোট কাকা দেবাষীষ মুখার্জি এ অভিযোগ করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বাগেরহাট রামপাল থানার শ্রীরম্ভা গ্রামের বাসিন্দা উজ্জল মুখ্জর্াীও মেয়ে দীপা চক্রবর্তীর সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় মহেশ্বরপাশা পাশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা পল্লব চক্রবর্তীরা সাথে। বিয়ের কিছু দিন পরেই যৌতুকের দাবিতে দীপার ওপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। নির্যাতন সহ্য করে দীপা সংসার করতে থাকে। কিন্তু ক্রমেই যৌতুক লোভী পল্লব আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় পল্লব যৌতুকের দাবিতে মারধর করে। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে তারা এলাকার মুরব্বীদের দিয়ে একশত টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত রাখে“ আর কখন যৌতুকের দাবিতে দীপাকে মারধর করবে না” বলে গত ১৭ জুলাই অঙ্গীকারনামা দেয়। এতে করে তারা আর মামলা করতে যায়নি। কিন্তু যৌতুক লোভী পল্লব এ অঙ্গিকারনামা দেয়ার পর কিছু দিন নিরব ছিল। কয়েক দিন পর আবার সে দীপার নিকট তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এ খবর শুনে গত ১৯ অক্টোবর দুপুরে ভিকটিমের ছোট বোন দিশা ও ঠাকুর দাদা শ্বশুরবাড়ি মহেশ্বরপাশায় আসে দীপাকে নিয়ে যেতে।  বিকেল ৩টার দিকে যৌতুকে টাকা না দিয়ে পিত্রালয়ে যাওয়া যাবে না বলে পল্লব সরাসরি দীপাকে জানিয়ে দেয়। দীপা যৌতুকে টাকা দিতে পারবে না বলে জানায়। এ সময় পল্লব ও তার পরিবারের লোকজন ক্ষীপ্ত হয়ে দীপাকে মারধর শুরু করে। ছোট বোন দিশা ও ঠাকুর দাদা ঠেকাতে গেলে তারা একজোট হয়ে তাদের তিনজনকে মারধর করে। এ সময় তাদের ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এসে সবাইকে উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে ওসি তা রেকর্ড করতে অসম্মতি জানায়।  উল্টো বিষয়টি মিমাংসা করার পরামর্শ দেয়। এতে করে ভিকটিমপরিবার বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। দৌলতপুর থানার ওসি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভিকটিমকে তারাই উদ্ধার করেছেন। তবে যেহেতু ঘটনাটি পারিবারিক। তাই তাদের পারিবারিক আদালতে মামলা করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে উপরের ফোন আছে এমন কথা সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।