Home আঞ্চলিক খাল খননে বদলে যাবে তেরখাদা-দিঘলিয়ার কৃষি ও জীবনযাত্রা: এমপি আজিজুল বারী হেলাল

খাল খননে বদলে যাবে তেরখাদা-দিঘলিয়ার কৃষি ও জীবনযাত্রা: এমপি আজিজুল বারী হেলাল

12

স্টাফ রিপোর্টার।।


বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার সেচ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খুলনার তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলায় একযোগে একাধিক খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) দিনব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে এসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, খনন কাজের পরিদর্শন ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন করা হয়।

সোমবার দুপুর ৩টায় তেরখাদা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং সেচ বিভাগ বিএডিসির বাস্তবায়নে প্রথমে বাঘাশিয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তুত স্থাপনের শুভ উদ্বোধন করেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক এস কে আজিজুল বারী হেলাল। পরে তিনি সরেজমিনে খাল খনন কাজ পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

এরপর বিকেলে দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের কামারগাতি খাল এবং সেনহাটি ইউনিয়নের নদীভাঙন কবলিত মমিনপুর এলাকায় আরও একটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এমপি আজিজুল বারী হেলাল।

বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক মোঃ জামাল ফারুকের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম সারোয়ার রাব্বী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিউলি মজুমদারসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি আজিজুল বারী হেলাল বলেন, খাল খনন শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, এটি কৃষিনির্ভর অর্থনীতি পুনর্জাগরণের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। খাল খননের মাধ্যমে সেচ সুবিধা বাড়বে, জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। ফলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান ও অর্থনৈতিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তেরখাদা উপজেলায় খাল খননের মাধ্যমে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। এরই অংশ হিসেবে খুলনার তেরখাদা ও দিঘলিয়ায় একযোগে এই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

খননকৃত মাটি ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, খাল থেকে উত্তোলিত মাটি পরিকল্পিতভাবে খালের পাড়ে সংরক্ষণ করে সেখানে সবজি চাষ করা হবে। এতে কৃষকরা আধুনিক কৃষিপদ্ধতির মাধ্যমে সবজি উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হবেন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

কৃষকদের জন্য আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত সবজি ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য উন্নতমানের কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হবে, যাতে তারা ন্যায্যমূল্য পান এবং ফসল সংরক্ষণে ক্ষতির সম্মুখীন না হন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে এমপি হেলাল বলেন, খাল খনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কেউ যদি চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়—সে দলের যে পর্যায়ের নেতাই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

মধুপুর অঞ্চলের সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঢাল-সরকি দিয়ে মানুষকে আহত করা কিংবা হত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া বর্বরতার শামিল। এই সহিংসতা বন্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই। অন্যথায় আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

শেষে তিনি বলেন, খাল খননের মাধ্যমে এ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং কোনো জমি পতিত থাকবে না। সর্বত্র সবুজে ভরে উঠবে তেরখাদা ও দিঘলিয়া—এই উন্নয়নই আমাদের অঙ্গীকার।