Home স্বাস্থ্য হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে যে ৫ খাবার

হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে যে ৫ খাবার

0

মিলি রহমান।।

মানবদেহে হরমোনের নানা ধরনের ভূমিকা রয়েছে। মনমেজাজ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে ওজন ঠিক রাখা এবং অন্যান্য শারীরিক কার্যকলাপে সহায়তা করে হরমোন। এ কারণে আমাদের শরীর যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে হরমোন উৎপাদন করে তা নিশ্চিত করা জরুরি। যখন শরীরে হরমোন উৎপাদন বাধাগ্রস্ত বা ব্যাহত হয়, তখন আমরা বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগি, যেমন—ওজন বৃদ্ধি, মেজাজের ওঠানামা, এমনকি প্রজনন সংক্রান্ত সমস্যাও হতে পারে।

‘হেলদি বিল্ডার্জড’এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমরা যা খাই তা আমাদের শরীরে উপস্থিত হরমোনের পরিমাণের উপর প্রভাব ফেলে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পাঁচটি খাবার যোগ করতে পারেন। যেমন-

নারকেল তেল
নারকেল তেলে থাকা লরিক অ্যাসিড, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা নিরাময় এবং সঠিক হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করার জন্য পরিচিত। খাদ্যতালিকায় এই তেল যোগ করার আরেকটি সুবিধা হলো, এটি আপনার শরীরে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস দূর করতে পারে এবং একই সাথে আপনাকে শক্তি জোগায়। এর কারণ হলো নারকেল তেল সহজে হজম হয় এবং এটি বিপাকেও সাহায্য করতে পারে।

ব্রকলি
ব্রকলির মতো ক্রুসিফেরাস সবজি আপনার যৌন হরমোন, বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পরিচিত। এই হরমোনটি নারীদের জন্য অপরিহার্য কারণ সুস্থ প্রজনন ব্যবস্থার জন্য এটি খুবই প্রয়োজনীয়। তবে, যখন ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ অতিরিক্ত হয়ে যায়, তখন ওজন বৃদ্ধি, প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম এবং এমনকি অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি থাকে। নিয়মিত ব্রকলি খেলে ইস্ট্রোজেন উৎপাদন নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এতে থাকা ফাইবার রক্তে ইস্ট্রোজেনের প্রবাহকে ঠিক রাখে।

কিনোয়া
এই শস্যটি স্বাস্থ্য সচেতনদের মধ্যে আজকাল বেশ জনপ্রিয়তা হয়ে উঠেছে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রার উপর কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলে না। যদি আপনার ইনসুলিনের মাত্রা ওঠানামা করে, তবে এটি অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। কিনোয়াতে জটিল কার্বোহাইড্রেট রয়েছে যার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। এর মানে হলো এই শস্যটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকবে, যা আপনার হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয়।

অ্যাভোকাডো
হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে এমন আরেকটি বিকল্প হলো অ্যাভোকাডো। এই শাঁসালো ফলটি স্বাস্থ্যকর চর্বিতে ভরপুর যা পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে। শুধু তাই নয়, অ্যাভোকাডোতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ভিটামিন ই, ফলিক অ্যাসিড, ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম এবং বি-ভিটামিনও পাওয়া গেছে, যা আপনার হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয়। আপনি ফলটি সরাসরি খেতে পারেন, সালাদে মেশাতে পারেন, অথবা এটি দিয়ে ডিপ তৈরি করে এর পুষ্টিগুণ শোষণ করতে পারেন, যা আপনার হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ডালিম
বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার জন্য ডালিম খুবই উপকারী। এছাড়াও, ডালিম হরমোন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে বলে জানা গেছে। এই গাছের ফুল থেকে শুরু করে বীজ, রস এবং খোসা সবকিছুতেই পুনিক অ্যাসিড থাকে, যা একটি বিরল ফ্যাটি অ্যাসিড।

সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার হরমোনগুলো যাতে সঠিকভাবে কাজ করে তা নিশ্চিত করতে, খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলো যোগ করা উপকারী হতে পারে। শরীরের হরমোনগুলো যখন ভালোভাবে কাজ করে, তখন মন মেজাজ ভালো থাকে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় থাকে।