‘পত্র কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না’ মর্মে রুল জারি
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) কর্মচারী ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিলের ৩৭ লাখ ৯৮ হাজার ৫৪০ টাকা আদায়ের বিষয়ে কেসিসির দেওয়া নির্দেশনার কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই পত্র কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। কেসিসি কর্মচারী ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কল্যাণ তহবিলের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমানের দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি শেষে গত ১৯ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিটের নম্বর ১০৬১২/২০২৬।
রিট সূত্রে জানা যায়, কেসিসির স্মারক নম্বর ৪৬.১২.০০০০.০০৯.০৪.০০৪.২৫-১১৬৯/১, তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০২৫-এর পত্রের কার্যকারিতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সাইফুর রহমান। ওই পত্রে কল্যাণ তহবিলের ঘাটতি বা তছরুপকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জল কুমার সাহা কেসিসির প্রশাসকের কাছে পাঠানো এক পত্রে জানান, ২০২১ সালে কল্যাণ তহবিলের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারায় সুস্পষ্ট বিধান ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে শুধু ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষকে দায়ী করে অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি পত্রে উল্লেখ করেন, বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের তদন্তে কল্যাণ তহবিলের ৩৭ লাখ ৯৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তদন্তে কেসিসি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ১১ সদস্যের বোর্ড অব ডিরেক্টরকে দায়ী করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে কেসিসির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ২০২২ সালের ১ জুনের এক পত্রে উল্লিখিত অর্থ সাত কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেন।
তবে কল্যাণ তহবিলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমানের দাবি, তহবিলের কোনো অর্থ তছরুপ হয়নি। বরং লভ্যাংশ অতিবিতরণের কারণে মূলধনে ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর আবেদনের পর পুনঃনিরীক্ষা করা হয় এবং পুনঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনে কল্যাণ তহবিলের অর্থ তছরুপ হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে আশরাফ উদ্দিন অ্যান্ড কোম্পানির নিরীক্ষা প্রতিবেদনও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এদিকে গত ১৮ আগস্ট শ্রম অধিদপ্তরের একটি স্মারকে ২০২২ সালের তদন্ত প্রতিবেদন ও কেসিসির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনার আলোকে কল্যাণ তহবিলের মূলধন ঘাটতির সমুদয় অর্থ বোর্ড অব ডিরেক্টর, সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছ থেকে আদায় করে তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার কথা জানানো হয়েছে।
কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জল কুমার সাহা বলেন, কর্মচারী ইউনিয়নের অভিভাবক বিভাগীয় শ্রম দপ্তর। শ্রম দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু শ্রম দপ্তরকে পাশ কাটিয়ে কেসিসি অর্থ পরিশোধের জন্য পত্র দিয়েছে। ওই পত্রের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করার পর আদালত এর কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়নের অষ্টম সাধারণ সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হলেও তা অমীমাংসিত ছিল। পরবর্তীতে অমীমাংসিত বিষয় কীভাবে সিদ্ধান্তে রূপান্তরিত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের ফলে ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের কেসিসির ১১৬৯/১ নম্বর পত্রের কার্যকারিতা আপাতত ছয় মাসের জন্য স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ওই পত্রের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন।










































