স্টাফ রিপোর্টার
একটি মৌসুমে হাটে বাঙ্গির ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চরম লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। গাড়িভাড়াও না ওঠায় ক্ষেত ছেড়ে ক্ষোভে বাড়ি ফিরে এসেছিলেন তিনি। তবে সেই ব্যর্থতাকেই নতুন সম্ভাবনায় রূপ দিয়েছেন খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গুপ্তমারী গ্রামের অদম্য নারী লতা রায়। খুলনা-চালনা মহাসড়কের পাশে তাঁর ছোট্ট সবজি দোকানটি কেবল নিজেরই নয়, আশপাশের পুরো একটি জনপদের স্বাবলম্বী হওয়ার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।
খুলনা-চালনা মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী শহরমুখী পথচারী ও যাত্রীদের নজর কাড়ে লতা রায়ের রাস্তার পাশের বিষমুক্ত টাটকা সবজির সমাহার। ঘেরের পাড়ে স্বামী ও পরিবারের সঙ্গে উৎপাদিত সবজি ছাড়াও শরিকদের এবং গ্রামীণ নারীদের খেত থেকে তুলে আনা কুমড়ার ফুল, কচি শসা, বরবটি, উচ্ছে, ডুমুর, পাকা-কাঁচা পেঁপে, ঘাটকোল, কচু, বিভিন্ন দেশি শাকসহ হাঁস-মুরগির ডিম, তালের ক্বাথ ও খাঁটি তেঁতুল মিলছে এই দোকানে। ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠে গৃহস্থালির কাজ শেষ করে সকাল ১১টার মধ্যে দোকান সাজিয়ে বসেন তিনি। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে হিসাব-নিকাশের প্রতিটি খাতা নিপুণভাবে বজায় রাখেন তিনি।
লতা রায়ের এই সাফল্য শুধু তাঁর নিজের সংসারেই সচ্ছলতা ও আর্থিক স্বাধীনতা এনে দেয়নি, বরং বদলে দিয়েছে পুরো রায়বাড়ির চিত্র। শরিকদের পণ্য বিক্রি করে সন্ধ্যায় ন্যায্য টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের উৎপাদনে উৎসাহিত করছেন তিনি। লতার এই সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এখন মহাসড়কের পাশে আরও দু-তিনজন স্থানীয় নারী নিজেদের ক্ষেতের ফসল নিয়ে বসতে শুরু করেছেন। লতার কাকিশাশুড়ি মিনতি রায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, “বউমা আমাদের কাছে লক্ষ্ণীর ঘট। তার এই দূরদর্শী উদ্যোগের কারণেই আজ আমাদের আয়-রোজগার ও সচ্ছলতার নতুন পথ উন্মোচিত হয়েছে।”
স্থানীয় বটিয়াঘাটা ও শহরের সচেতন ক্রেতারা বলছেন, রাসায়নিক মুক্ত গ্রামের তাজা ও বিলুপ্তপ্রায় দেশি সবজি পাওয়ার নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠেছে লতার এই কুটির। অদম্য ইচ্ছা ও সঠিক বুদ্ধিমত্তা থাকলে যে গ্রামীণ নারীরা ক্ষুদ্র প্রয়াসেই নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন করতে পারেন, বটিয়াঘাটার লতা রায় আজ তার উজ্জ্বল উদাহরণ।










































