নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলে পাটের মৌসুমে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছে। ১৫ দিনের ব্যবধানে জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে পাটের দাম মণপ্রতি এক হাজার টাকা কমে গেছে। মৌসুমের শুরুতে যে পাট ৪ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে তা মান ভেদে ৩ হাজার ৬০০ টাকায় নেমে এসেছে। এতে উৎপাদন খরচ উঠছে না কৃষকের। নড়াইল জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নড়াইলে ২৩ হাজার ৫১৭ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। এবার পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৮ হাজার ১৯৮ টন। এরই মধ্যে ৯৮ শতাংশ জমির পাট কাটা শেষ হয়েছে। ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাট বাজারে আসায় সরবরাহ বেড়ে গেছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে জেলার বড় তিনটি পাটের মোকাম বড়দিয়া, তুলারামপুর ও মিঠাপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা বিভিন্ন যানবাহনে করে পাট নিয়ে হাটে আসছে। পাটের আঁশের রং, গুণগত মান ও শুকানো অবস্থা দেখে দরদাম করছেন ফড়িয়া ও পাইকাররা। দামদর ঠিক হলে পাট গুদামে নিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীর লোকজন। চরকালনা গ্রামের কৃষক বুলবুল আনিচ বলেন, মৌসুমের শুরুতে ভালো দামে পাট বিক্রি করেছি। এখন সেই পাটের দাম অনেক কমে গেছে। চাষের সময় নেওয়া ঋণ, সার-সেচের খরচ, শ্রমিকের পাওনা এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে বাজারে দাম কম থাকলেও বাধ্য হয়ে পাট বিক্রি করতে হচ্ছে। ৪০ কেজিতে এক মণ হিসাব করার বদলে কোথাও কোথাও ৪২ কেজিতে এক মণ ধরা হচ্ছে। এতে প্রতি মণে দুই কেজি অতিরিক্ত পাট দিতে হচ্ছে।
আরেক কৃষক শাহিদুল ইসলাম বলেন, পাট ঘরে রেখে দেওয়ার সামর্থ্য অনেক কৃষকের নেই। বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিতে হবে, তাই কম দাম হলেও পাট বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ বাড়ার কারণে যদি দাম আরও কমানো হয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষকেরাই।
মিঠাপুর মোকামের পাইকারি পাট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, মৌসুমের প্রথমে বাজারে পাটের সরবরাহ কম ছিল। একই সময়ে পাটকলগুলোর চাহিদা থাকায় দামও তুলনামূলক বেশি ছিল। এখন বিভিন্ন এলাকায় পাট কাটা ও বাজারজাত একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এর প্রভাবেই পাটের দাম একহাজার টাকার মতো কমছে আবার কোনো সময় বেড়ে যাচ্ছে। সামনে বাজারে পাটের সরবরাহ আরও বাড়তে পারে। অভ্যন্তরীণ বাজার এবং পাটজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক চাহিদার ওপরও দাম নির্ভর করবে। তাই ভবিষ্যতে দাম কোন দিকে যাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরিফুল রহমান বলেন, অধিকাংশ জমির পাট কাটা শেষ হওয়ায় এখন বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষকদের প্রত্যাশা, বাজার স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি সঠিক ওজন ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আব্দুল সালাম বলেন, পাটের বাজার পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে। কোনো সিন্ডিকেট বা কারসাজির কারণে যাতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।










































