শামিম শিকদার।।
খুলনার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মনিরুজ্জামান সাগরের মৃত্যুর চার বছর পার হলেও তার ‘রহস্যজনক দুর্ঘটনা’ নিয়ে প্রশ্নের জট আজও কাটেনি। ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তবে ঠিক কী ঘটেছিল ২০ ফেব্রুয়ারির সেই রাতে-এ প্রশ্ন এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
সেই রাতের অজানা অধ্যায়>>
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাতে একটি আমন্ত্রণে যোগ দিয়ে বের হওয়ার পর সাগর কোথায় গিয়েছিলেন বা কার সঙ্গে ছিলেন-তার সুনির্দিষ্ট তথ্য কেউ দিতে পারেননি। কিছু সময় পর তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তখন তিনি অচেতন ছিলেন। ফলে কীভাবে আহত হলেন, সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য আর জানা যায়নি।
প্রথমে তাকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং পিজি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি মারা যান।
দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু?
ঘটনার পর অনেকে এটিকে ‘রিকশা থেকে পড়ে যাওয়ার দুর্ঘটনা’ বলে প্রচার করলেও সেই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের দাবি-আঘাতের ধরন ছিল অস্বাভাবিক। চোখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর চোটের বিষয়টি নিয়ে তখনও নানা গুঞ্জন ছিল।
প্রশ্ন উঠেছে-যে রিকশায় তিনি ছিলেন, তার চালকের পরিচয় কী? আহত অবস্থায় তাকে কে বা কারা উদ্ধার করেছিল? ঘটনার সময় ও স্থান নিয়ে স্পষ্ট বিবরণ কেন সামনে আসেনি? এত বছর পরও এসব প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক ও সুস্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতন
মনিরুজ্জামান সাগর রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন পর্ব অতিক্রম করেছেন। জাতীয় পার্টির শাসনামলে তিনি তৎকালীন নগর জাতীয় পার্টির সভাপতি এস এম এ রব-এর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং মহানগর যুব সংহতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি নিজ অবস্থান সুদৃঢ় করেন। মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পরে মহানগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দলীয় প্রভাবশালী অবস্থানে থেকেও তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার বা রূঢ় আচরণের অভিযোগ শোনা যায়নি-এমন দাবি করেন তার সমসাময়িকরা। সরকারি ও বিরোধী-উভয় শিবিরের ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়।
রহস্যের জট এখনো অমীমাংসিত
তার মৃত্যুর পর শোকের ছায়া নেমে এলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে চার বছর পেরিয়েও প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে অনুত্তরিত।
রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দাবি, সাগরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। তারা বলছেন, সত্য উদঘাটন হলে শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনের দীর্ঘদিনের সংশয় দূর হবে।
সময় গড়িয়েছে, প্রেক্ষাপট বদলেছে; কিন্তু ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির সেই রাতের অন্ধকার এখনো কাটেনি। মনিরুজ্জামান সাগরের মৃত্যু কি নিছক দুর্ঘটনা ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা লুকিয়ে আছে-এ প্রশ্নের উত্তরই এখন সবার প্রত্যাশা।











































