ক্রীড়া প্রতিবেদক।।
আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে দশম নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ক্রিকেটের এই মহাযজ্ঞে খেলার টিকিট পেয়েছে বাংলাদেশ। নেপালে গতকাল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সুপার সিক্সের ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারায় লাল-সবুজরা। পরে নেদারল্যান্ডসের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ে নিশ্চিত হয়ে যায় নিগার সুলতানাদের বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া।
কাঠমান্ডুতে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ নারী দল নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান করে। তবে শুরুটা তাদের ভালো ছিল না। দলীয় ১২ রানের মধ্যে দিলারা আক্তার ও শারমিন আক্তারের উইকেট হারায় তারা। প্রথম বলেই ‘গোল্ডেন ডাক’ মেরে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান দিলারা। তিনে নামা শারমিনও ফেরেন দ্রতই। তিনি ৯ বলে ১১ রান করেন। শুরুর ধাক্কাটা জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও সোবহানা মোস্তারির ব্যাটে সামলে ওঠে বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে তারা ৮২ বলে স্কোরকার্ডে ১১০ রান জমা করেন। তাতেই দলীয় সংগ্রহটা ১২০ পেরিয়ে যায়। জুয়াইরিয়া ৪৫ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় করেছেন ৫৬ রান। নারী টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে এটি কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কার যৌথ রেকর্ড। তবে আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করেছেন সোবহানা। চারে নেমে ৪২ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৫৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। বাকি ব্যাটারদের মধ্যে আটে নেমে ৬ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৫ রান করেন রিতু মনি। তবে রান পাননি স্বর্ণা আক্তার (৪), নিগার সুলতানা (৬), রাবেয়া খান (৫)। দলীয় ১২২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর স্কোরকার্ডে ৪৩ রান যোগ করতেই আরও ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ১২৬ রান তুলতে পারে থাইল্যান্ড নারী দল। শুরুর ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েছিল তারা। তবে ব্যক্তিগত ৪৬ রানে চ্যান্থাম আউট হওয়ার পর খেই হারিয়ে ফেলে দলটি। ৬৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর বাকি ব্যাটাররা বাংলাদেশের বোলারদের সামনে লড়াই করতে পারেনি। চ্যান্থাম, চাইউই (৩০) ও কোনচারোয়নকাই (২৯) ছাড়া বাকি কোনো ব্যাটার দুই অংক ছুঁতে পারেননি। ১০ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৬১ রান। শেষ ৪ ওভারে দরকার ছিল ৬৪ রান। শেষ পর্যন্ত ১২৬ রানেই থামে থাইদের ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন মারুফা আক্তার। রিতু মনি ও স্বর্ণা আক্তার নেন ২টি করে উইকেট। ৪২ বলে ৫৯ রান করা সোবহানা মোস্তারি ম্যাচসেরা হন। থাইল্যান্ডকে হারিয়ে টানা পঞ্চম জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। বাছাইয়ে নিগারদের শেষ দুই ম্যাচ স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। প্রসঙ্গত, এ নিয়ে টানা সপ্তমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে অভিষেক আসরে তারা খেলেছিল দেশের মাঠে স্বাগতিক হিসেবে। পরের প্রতিবারই বিশ্ব আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা বাছাই পেরিয়ে।
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে ১২ দলের। টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে ৮টি দলের জায়গা নিশ্চিত হয়েছে। বাকি চার দল সুযোগ পাবে নেপালে হতে যাওয়া বাছাই টুর্নামেন্ট থেকে, যেখানে সুপার সিক্সে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পাবে। বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের সমান পয়েন্ট (৬) হলেও নেট রানরেটে এগিয়ে থাকায় সুপার সিক্সের টেবিলের শীর্ষে বাংলাদেশ। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে স্কটল্যান্ড (৪) ও আয়ারল্যান্ড (২)। কোনো পয়েন্ট না পাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ড সবার শেষে।











































