Home আঞ্চলিক আওয়ামী লীগের ‘দুর্গে’ জিততে মরিয়া বিএনপি-জামায়াত

আওয়ামী লীগের ‘দুর্গে’ জিততে মরিয়া বিএনপি-জামায়াত

57

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি।।


স্বাধীনতার পর থেকেই খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এককভাবে জয়ী হতে মরিয়া বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মাদ আলী আসগার লবি। জামায়াতের প্রার্থী দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।


২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের হয়ে এখানে জিতেছিলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই নির্বাচনে খুলনা-২ আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচনে জয়ী হন আলী আসগার লবি। তাঁকে খুলনা-৫ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার পর বিএনপির তৃণমূলের একাংশে অসন্তোষ দেখা দেয়। এই বিরোধের প্রকাশ্যে অবসান হলেও এটি জামায়াতের কাছে সুযোগ হিসেবে দেখা দেয়।

কদর আওয়ামী লীগের
নির্বাচন সামনে এ আসনের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কদর বেড়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই দলের অনেকেই সরাসরি বা গোপনে বিএনপি ও জামায়াতে ভিড়ে গেছেন। স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে এ আসনে আওয়ামী লীগের আধিপত্যই তাদের কদর বাড়ার কারণ।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, খুলনা-৫ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯৮ জন। ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ডুমুরিয়ায় ১০৮টি ও ফুলতলায় ৪২টির অবস্থান। আগের নির্বাচনের ফল ঘেঁটে দেখা গেছে, ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চের নির্বাচনে এ আসনে ৮১ হাজার ৫১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট এনায়েত আলী সানা। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের (মালেক) প্রার্থী সালাউদ্দিন ইউসুফ ৩৮ হাজার ৬৬৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ১৯৮৬ সালের ৭ মের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির এইচএমএ গফফার বীরউত্তম ৮০ হাজার ৮৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৬৩ হাজার ২১১ ভোট পেয়ে জয়ী হন আওয়ামী লীগের সালাউদ্দিন ইউসুফ। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনেও তিনি ৭০ হাজার ১৮৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে জয়ী মিয়া গোলাম পরওয়ার পান ১ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ ভোট। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিনা ভোটেই নির্বাচিত হন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে ২ লাখ ৩১ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়ে ও ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারিতে ১ লাখ ১০ হাজার ২১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

ডুমুরিয়ার শোভনা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির শেখ মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘জামাতের আদর্শ ও কর্মকাণ্ডের ওপর আস্থা রেখে আওয়ামী লীগের একটি অংশ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে। এ ছাড়া এখানে জামায়াতের হিন্দু শাখার অনেক নেতাকর্মী আছেন, তারাও আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে যোগদান করেছেন।’
খুলনা জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক খান ইসমাইল হোসেনের ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অনেক লোক আওয়ামী লীগে রয়েছেন। বিএনপির আদর্শ ও কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করেই ডুমুরিয়া-ফুলতলা উপজেলার একটি বড় অংশের লোকজন ধানের শীষে ভোট দেবে বলে তিনি আশাবাদী।

নদী-খাল দখল ও জলাবদ্ধতা
২০১৪ সাল থেকে ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা, শালতা, থুকড়া-হামকুড়া, হরি নদীসহ ৪টি নদী ও ১২২ খাল অবৈধ দখলদারের কবলে। এ ছাড়া উপজেলায় পাউবোর ৬টি পোল্ডারে ১০১টি স্লুইসগেট আছে। এর মধ্যে খালে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় ৭৫টি স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ। ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় প্রতিবছর ক্ষতি হচ্ছে কৃষকের। উপজেলায় চলতি মৌসুমেই ৯৬১ হেক্টর জমিতে আমন ও বোরো আবাদ করা যায়নি।

ডুমুরিয়ার নাগরিক সমাজের হাশেম আলী ফকির বলেন, গ্রামবাসীকে সম্পৃক্ত করে পাউবোর পোল্ডার এলাকার স্লুইসগেটগুলোর সংস্কার জরুরি। পাশাপাশি নদী-খাল অবৈধ দখলদারের কবল থেকে মুক্ত করে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া দরকার।
বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগার লবি বলেন, ‘স্থায়ী জলাবদ্ধতা স্থানীয় মানুষের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে ও নিরাপত্তা দিতে হবে। আমি নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে ডুমুরিয়া-ফুলতলার সাধারণ মানুষকে নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা করে কাজ শুরু করা।’
মিয়া গোলাম পরওয়ারের চোখে
ডুমুরিয়া-ফুলতলায় জলাবদ্ধতাসহ বহুমুখী সমস্যা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই আসন নানা অপরাধ আর অনিয়মের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এর মূল কারণ সুশাসনের অভাব। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ইনসাফভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’