সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের কলিমাখালী এলাকায় ভূগর্ভস্থ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন (বলগেট) ব্যবহার করে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি এনজিও ‘সুশীলন’-এর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ কর্মকাণ্ডে ভূমিধস ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলিমাখালী ৭৩ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে লুৎফর রহমান মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনবান্ধব সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭২০ মিটার সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় কয়েকজন মৎস্য ঘের মালিকের সঙ্গে চুক্তি করে ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সালেহা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কালাম এবং এনজিও সুশীলনের পরিচালক ও নির্বাহী পরিচালক যৌথভাবে এ অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত। কলিমাখালী গ্রামের মনিরুল ইসলাম ও শাহিনুর ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে রাস্তার কাজে ব্যবহার করছেন। এতে সংশ্লিষ্টরা লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। প্রায় ৪৬ লাখ ২৫ হাজার ৬৫ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ সড়ক প্রকল্পটি শ্রীউলা ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডঋচ)। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও এলজিইডির সার্বিক সহযোগিতা রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে গত দুই সপ্তাহ ধরে এ অবৈধ বালু উত্তোলন চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলকে ‘ম্যানেজ’ করেই এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে ফসলি জমি, মৎস্য ঘের ও বসতবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রেজার মেশিন দিয়ে অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যায়, মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং মৎস্য প্রজনন ব্যাহত হয়। এর ফলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ নদীভাঙন ও কৃষি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে সুশীলনের পরিচালক মোস্তফা আক্তারুজ্জামান পল্টুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা নুরুজ্জামান বলেন, তারা শুধু রাস্তা নির্মাণের তদারকি করছেন এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। আশাশুনি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব বলেন, এটি ডঋচ-এর প্রকল্প। ঠিকাদার স্থানীয় জমির মালিকদের সঙ্গে কথা বলে বালু সংগ্রহ করছে। আমাদের দায়িত্ব শুধু কাজের মান তদারকি করা।
এ বিষয়ে আশাশুনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়ার্দার জানান, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্টের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের দাবি, অবিলম্বে মৎস্য ঘের ও জমির ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আশাশুনি অঞ্চলে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ও ভুমি ধস দেখা দিতে পারে।










































