Home আঞ্চলিক চরমপন্থীদের তৎপরতায় জনজীবনে আতঙ্ক, গ্রামে গ্রামে বন্ধ দোকানপাট

চরমপন্থীদের তৎপরতায় জনজীবনে আতঙ্ক, গ্রামে গ্রামে বন্ধ দোকানপাট

23


ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় চরমপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে গ্রামীণ এলাকায় আবারও ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যার পর অনেক গ্রামে দোকানপাট বন্ধ থাকে, রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়, আর সাধারণ মানুষ রাতে বাইরে বের হওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। একাধিক স্থানে চরমপন্থীদের নামে চাঁদা দাবি, হুমকি ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার দুধসর, নিত্যানন্দপুর ও আবাইপুরের অন্তত ২০টি গ্রামে সম্প্রতি অজ্ঞাত পরিচয়ের সশস্ত্র ব্যক্তিদের উপস্থিতি বেড়েছে।
তারা নিজেদের একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য পরিচয় দেয় বা ভিন্ন নামে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করে। অভিযোগ আছে, চাঁদা না দিলে তারা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
স্থানীয়রা আরো জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর কয়েকজন মুখোশধারী মোটরসাইকেল চালক গ্রামে ঢুকে বাড়ি বাড়ি খোঁজ নেয়। কিছু বাড়িতে দরজায় কাগজ রেখে যায়, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দিতে বলা হয়।
এ কারণে অনেক পরিবার আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছে, কেউ কেউ নিরাপত্তার আশায় অন্যত্র অবস্থান করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ কৃষকরাও এই চরমপন্থী চাপের প্রভাবে চাঁদা পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
চরমপন্থীর প্রভাবের কারণে গ্রামীণ সামাজিক জীবনও ব্যাহত হচ্ছে। রাতে বিয়ে, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শৈলকুপায় লাল পতাকা বাহিনী, পুরানো সর্বহারা গ্রুপ ও জনযুদ্ধ নামের কয়েকটি নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠন সম্প্রতি তাদের নেটওয়ার্ককে পুনরায় সক্রিয় করেছে। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রভাবশালী মহল ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি করেছে। তাদের লক্ষ্য নির্বাচনী এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও সশস্ত্র উপস্থিতি দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা। ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তারের জন্য চরমপন্থী গোষ্ঠীর সহায়তা নিচ্ছেন অনেক রাজনৈতিক নেতা।
বিনিময়ে তাদের দেওয়া হচ্ছে অস্ত্র ও নিরাপত্তার আশ্বাস। ফলে গ্রামে গ্রামে তারা নব্বইয়ের দশকের মতো আধিপত্য বজায় রাখছে এবং বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সংগঠন পরিচালনার নামে অর্থ আদায় করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুগনী গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, রাত হলেই গ্রামে অচেনা মোটরসাইকেল চালকরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা আমাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। আগের মতো ভয়ভীতি আবার শুরু হয়েছে। শুধু অভিযান নয়, প্রশাসনের নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
মানবাধিকারকর্মী ও জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, শৈলকুপায় চরমপন্থীদের উপস্থিতি অনেক আগেই লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে তারা গত কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে কাজ করছে। এছাড়া আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে কিছু প্রার্থী এদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তাই শুধু সাধারণ মানুষ নয়, আগামী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও চরমপন্থীদের প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, চরমপন্থী তৎপরতা রোধে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। আশা করি শিগগিরই এই সমস্যা সমাধান হবে।