Home জাতীয় রাজধানী জুড়ে ভোর থেকেই জনস্রোত

রাজধানী জুড়ে ভোর থেকেই জনস্রোত

6


ঢাকা অফিস
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে রাজধানী জুড়ে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হলেও ভোর থেকেই শহরের প্রবেশ পথগুলোতে ছিল জনস্রোত। মেট্রো বা যানবাহন না পেয়ে অনেকেই পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়তে থাকে। দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এই জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের ভিড় সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে এক মহাসমুদ্রে রূপ নেয়। এদিন, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, শ্যামলী, ৬০ ফিট রোড ও তালতলা সহ আশপাশের সব পথে মানুষের স্রোতই মানিক মিয়া এভিনিউয়ের দিকে মিলিত হয়। এ সময় আগারগাঁও থেকে মিরপুরমুখী ডানের রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

লাখ লাখ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটেই জানাজাস্থলে আসেন। বিএনপি’র নেতাকর্মীদের কালো পোশাক বা কালোব্যাজ ধারণ করতে দেখা যায়। অনেকের হাতে ছিল দলীয় পতাকা, খালেদা জিয়ার ছবি। তারা কেউ জিকির করছিলেন আবার স্মৃতি ধরে রাখতে কেউ ছবি তুলছিলেন; এমনকি কেউ ফেসবুক লাইভে গিয়ে জনস্রোতের ভিডিও করছিলেন। জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের মুখে ছিল গভীর শোক ও আবেগের ছাপ। এদিন জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচিবালয়, শাহবাগ, শিশুমেলা, তালতলাসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে মানিক মিয়া এভিনিউসহ রাজধানীতে ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছিল।


সরজমিন দেখা যায়, শাহবাগসহ আশপাশের এলাকায়, শিশুমেলা, শেরেবাংলা নগর থানা এলাকা, তালতলা, আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবন এলাকার মূল সড়ক, অলিগলিতে সারি সারি রাখা দূরপাল্লার সব যানবাহন। যেসব যানে চড়ে রাতে ও সকালে ঢাকায় নেমেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এদিকে, শেরেবাংলা নগর সরকারি গার্লস স্কুলের মুখেই রাস্তা ডাইভারশন করেছে সেনাবাহিনী। সেখানে শুধু ডানে টার্ন করার সুযোগ ছিল। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বা পরিকল্পনা কমিশনের সামনে দিয়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। অন্যদিকে আগারগাঁও থেকে খামারবাড়ী ফার্মগেট যাওয়ার পথ বন্ধ ছিল। সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে জানাজা স্থলে যায়। রাজশাহী থেকে আসা কবির সরকার বলেন, ঢাকায় পৌঁছেছি সকাল ১০টার দিকে। গাবতলীতে বাস থেকে নামছি। এরপর কোনো রকমে শ্যামলী পৌঁছেছি। এরপর থেকে হেঁটে এখন আগারগাঁও এসেছি।


মিরপুর ১০ নম্বর থেকে আগারগাঁও এসেছেন বিএনপি’র কর্মী রাসেল। তিনি বলেন, জানি না এই ভিড় এড়িয়ে কতোক্ষণ পর্যন্ত মানিক মিয়া এভিনিউতে পৌঁছাতে পারবো। তবে আমি মূল জানাজাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করবো। এদিকে, কুমিল্লার হোমনা থেকে আসা যুবদল নেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, আপসহীন নেত্রীর জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছি। শাহবাগ থেকে যান চলাচল প্রায় বন্ধ। তাই হেঁটেই যেতে হচ্ছে। কিছুটা ভোগান্তি সত্ত্বেও যাচ্ছি দেশনেত্রীর জানাজায় অংশ নিতে পারছেন- এতেই তিনি খুশি। এদিন, জানাজাকে ঘিরে মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় এক শোকাবহ ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জানাজায় অংশ নিতে মানুষের উপস্থিতি আরও বাড়ে। যে যেভাবে পেরেছেন, সময়ের আগেই পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন সবাই।