Home আঞ্চলিক তিনদিনেও আটক হয়নি অস্ত্রধারী: এনসিপির মোতালেব হত্যাচেষ্টায় যুব শক্তির তন্বী জেলে, মামলা...

তিনদিনেও আটক হয়নি অস্ত্রধারী: এনসিপির মোতালেব হত্যাচেষ্টায় যুব শক্তির তন্বী জেলে, মামলা ডিবিতে

37


স্টাফ রির্পোটার
খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক শক্তির নেতা মো. মোতালেব শিকদারের স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় যুব শক্তির নেত্রী তনিমা তন্বীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ এর বিচারক মো. আসাদুর জামান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামীদের এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধার করতে পারেনি ব্যবহৃত অস্ত্র।
সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনর্চাজ রফিকুল ইসলাম জানান, বিকেল ৩টার কিছুক্ষণ পর প্রিজন ভ্যানে করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম তাকে আদালতে নিয়ে যায়। এরপর তাকে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারকের খাস কামরায় নেওয়া হয় পরবর্তীতে তাকে কারাগারে পাঠানের নির্দেশ দেন বিচারক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাদিম মাহমুদ বলেন, তনিমা তন্বী মঙ্গলবার অসুস্থ হয়ে পড়লে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে প্রেরণ করে। বুধবার সুস্থতাবোধ করলে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তার পরবর্তী দিন ধার্য করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
উল্যেখ্য, জাতীয় শ্রমিকলীগ থেকে ৫ আগষ্ট পরর্বতীতে খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তিতে যোদান করেন। তার পরই মোতালেব শিকদারকে এনসিপির শ্রমিক শক্তির খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক করা হয়। তার পর থেকেই মোতালেব শিকদার বেপরোয়া হয়ে উঠে বলে পুলিশের একটি সুত্র দাবি করেন।
পুলিশের অপর একটি সুত্র জানায়,তিনি ( মোতালেব ) নগরীর জিরো পয়েন্ট ও সোনাডাংগা এলাকায় গাড়ী প্রতি ২ শত টাকা করে তুলতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অপরদিকে একজন আইনজীবী ও একজন চিকিৎসকের সুপারিশে এনসিপির যুবশক্তিতে খুলনা জেলার ১ নম্বর যুগ্ম-সম্পাদক হন তনিমা তন্বী। তারপর থেকেই তিনিও বেশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। প্রায় প্রতিদিনই তার ভাড়া করা বাসায় বসাতো মাদক ও নারী-পুরুষের আড্ডা।
মোতালেব শিকদারকে গুলি করার ঘটনায় মোসা. তনিমা তন্বীসহ অজ্ঞাত ৮ জনকে আসামি করে দায়ের করা মামলায় তনিমা তন্বীকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তন্বীকে রিমান্ডে নেবার আবেদন করা হবে বলে তদন্ত কর্মকর্তা নাদিম মাহমুদ দেনিক খুলনাঞ্চলকে জানান। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে মোতালেব শিকদারের স্ত্রী রহিমা আক্তার ফাহিমা বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা করেন।
খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক শক্তির নেতা মো. মোতালেব শিকদারকে গুলির ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। এ ছাড়া এ মামলায় গ্রেপ্তার যুব শক্তির নেত্রী তনিমা তন্বীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তন্বী নিজেকে দেড় মাসের অন্তঃসত্তা বলে দাবি করেছেন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট- ১ এর বিচারক মো. আসাদুর জামানের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এর আগে পুলিশ তাকে আহত মোতালেবের স্ত্রী রহিমা আক্তার ফাহিমার দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে।
মামলাটির তদন্তে জড়িত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, শ্রমিক শক্তির নেতা মোতালেব শিকদার গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কথা বললেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পুলিশকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। তিনি খুব অসুস্থ, কথা বলতে পারছেন না- এমন অবস্থা দেখাচ্ছেন।
তবে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনার দিন ওই বাসায় ও আশপাশে মোতালেব শিকদার, তানিয়া তন্বী এবং তার স্বামী তানভীর শেখসহ ১০ জন উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী সংগঠনের কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিল। মাদক ও চাঁদাবাজির ভাগ-বাটোয়ারার বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
মোতালেব শিকদার, তানিয়া তন্বী এবং তার স্বামী তানভীর শেখ নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। মোতালেব শিকদারের ব্যাপারেও আলাদাভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
খুলনা মেট্টোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোহামম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মোতালেব শিকদার হত্যাচেষ্টা মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশে দেওয়া হয়েছে। মোতালেব গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে আমরা মাঠে কাজ করছি।
তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানিয়া তন্বী নিজেকে দেড় মাসের অন্তঃসত্তা বলে দাবি করেছেন। তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তবে এখনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর সকালে নগরীর ১০৯ মজিদ সরণির আল আসকা মসজিদ গলির ‘মুক্তাহাউজ’ নামে একটি বাসার নিচতলায় গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব শিকদার। পুলিশ সেখান থেকে গুলির খোসা, বিদেশি মদের বোতল, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আলামত জব্দ করে। পরদিন দুপুরে আহত মোতালেবের স্ত্রী রহিমা আক্তার ফাহিমা জেলা জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব আটক তনিমা ওরফে তন্বীর নামাল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনের নামে সোনাডাঙা মডেল থানায় এ মামলা করেন।