ঢাকা অফিস।।
রাজধানীর পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে একসময়কার শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে। সোমবার সকালে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি। ঘটনাটি ঘিরে ফের প্রশ্ন উঠেছে—আবার কি মাথাচাড়া দিচ্ছে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড?
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, মোটরসাইকেলে করে আসা দুজন মুখোশ ও টুপি পরা ব্যক্তি মামুনের ওপর একের পর এক গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে পুরো ঘটনাটি ঘটে যায়।
হত্যার শিকার মামুন একসময় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকার আতঙ্ক ছিলেন। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ইমন–মামুন’ বাহিনী একসময় ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম শক্তিশালী গ্রুপ হিসেবে পরিচিত ছিল। এই বাহিনী চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা এবং সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
কয়েক মাস আগে জামিনে মুক্তি পান তারিক সাইফ মামুন। এর আগে ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে তার ওপর গুলি চালানো হয়। তবে সেদিন গুলিটি লেগেছিল ভুবন চন্দ্র শীল নামের এক মোটরসাইকেল আরোহীর মাথায়; পরে তিনি মারা যান।
ওই ঘটনার তদন্তে পুলিশ বলেছিল, মামুনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল তারই সাবেক সহযোগী ও প্রতিদ্বন্দ্বী কারাবন্দি সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের অনুসারীরা। পুরোনো আন্ডারওয়ার্ল্ড বিরোধের জেরেই সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “মামুন হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত। ইমন গ্রুপের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব বহু পুরোনো। আন্ডারওয়ার্ল্ডে পুরোনো হিসাব চুকানোর ধারাবাহিকতাই এ ঘটনার পেছনে থাকতে পারে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলেও ইমন ও মামুন গ্রুপের সদস্যরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে। বড় বড় চাঁদাবাজি, প্রভাব বিস্তার আর পুরোনো দখল-যুদ্ধ ঘিরে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।











































