স্টাফ রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। বিশেষ করে খুলনার ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতে বিএনপি, ৬টি জামায়াত ইসলামীসহ বিভিন্ন দল প্রার্থী চূড়ান্ত করায় ভিন্ন আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি নির্বাচনী এলাকায় দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মীসভা, উঠান বৈঠকের পাশাপাশি গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তবে সব ছাপিয়ে উঠে আসছে প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা ইস্যু। বিশেষ চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগে ব্রাশ ফায়ারে হতাহতের ঘটনায় নেতাদের উদ্বেগ বাড়ছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলের নেতা ও প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, গত ১৪ মাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কিছুটা হলেও উদ্বীগ্ন। বিশেষ করে মহানগরের হক বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৪ মাসে কেএমপির আওতায় ৮টি থানায় একের পর ৩৯টি হত্যাকান্ড ঘটেছে। এছাড়া প্রায়শ:ই কোপাকুপি, গুলিবর্ষণ, বোমা হামলার ঘটনাতো রয়েছেই। এমন অবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিতে পারে। এজন্য আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে কঠোর হতে হবে।
খুলনা মহানগর জামায়াতের আমীর ও খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহানআলী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, সুন্দর-সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশের পূর্বশর্ত হচ্ছে নিরাপদে যারযার প্রচারনা চালানো। সেখানে বিঘ্ন ঘটলেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়েছে সেটি বলা যাবে না। খুলনা-৩ আসনে দেখা গেছে কোন কোন প্রার্থী আমার পোষ্টারের ওপর পোষ্টার সেঁটেছেন। এটি খুবই দু:খজনক। এটি নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলেও তাঁর আশংকা। তাছাড়া ফুলবাড়িগেট, তেলিগাতীসহ খুলনা-৩ আসনের কোন কোন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হচ্ছে। এটি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত হতে পারে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙা) আসনের প্রার্থী মুফতি আমানুল্লাহ বলেন, খুলনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা একাধিক বার প্রশাসনকে বলেছি। যা ঘটছে সেটি উদ্বেগজনক। তবে এখন নির্বাচনী প্রচারণা কিছু হয়নি। সকল দলের প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও কী হবে তা এখনও বলা যাবে না। আমরা চাইবো প্রশাসন আরো তৎপর হবেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে “জনগণের স্বার্থের নির্বাচন” আখ্যা দিয়ে বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, এই নির্বাচন হবে জনগণের স্বার্থে, জনগণের পক্ষে নির্বাচন। কেউ কেউ এই নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। তারা জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেবে। দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর সংগ্রাম, আন্দোলন ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছে। এখন তারা জেগে উঠেছে; তাদের পছন্দের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা করা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা হবে।
অবশ্য বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী আজিজুর বারী হেলাল খুলনায় নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘আমার সংসদীয় এলাকায় সৌহার্দ্য পরিবেশ রয়েছে। এখানে অন্যান্য দলও কাজ করছে। তবে সহিংসতা, হামলা – এধরণের আশঙ্কা করছি না। আশাকরছি শান্তিপূর্ণ নির্বাচিন অনুষ্ঠিত হবে।
খুলনা -৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, খুলনা-৬ আসনে বিএনপি’র ঘাড়ে চড়ে জামায়াতের প্রার্থী এমপি হয়েও নির্বাচনী এলাকার কোন উন্নয়ন করতে পারেনি তাছাড়া কৌশলে বিএনপির নেতাকর্মীদের কোন ঠাসা করে রেখেছিল। এখন এ রাজনৈতিক দলটি আসন্ন নির্বাচন বানচালের চেষ্টায় লিপ্ত হয়ে ধর্মীয় ইস্যুতে জাতিকে বিভক্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।
নগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন,‘বেছে বেছে বিএনপির ত্যাগী-পরিশ্রমী কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে। অথচ কেউ ধরা পড়ছে না। আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ নিয়ে দাবি জানালে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এটি উদ্বেগজনক।’
খুলনা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব পুলিশের। পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে নিরাপত্তার জন্য কাজ করছে। বিশেষ করে নির্বাচনের এই সময়ে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য বাড়তি ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’









































