Home Lead ‘স্যারকে তুমি মেরে ফেল, আমি আর সহ্য করতে পারছি না’

‘স্যারকে তুমি মেরে ফেল, আমি আর সহ্য করতে পারছি না’

97
জোবায়েদ, বর্ষা ও মাহির

ঢাকা অফিস।।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্র ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেনকে হত্যা মামলায় প্রেমিকা বার্জিস শাবনাম বর্ষাসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

‎‎স্বীকারোক্তি দেওয়া অপর আসামিরা হলেন বর্ষার আরেক প্রেমিক মো. মাহির রহমান ও মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান।

‎‎মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও বংশাল থানার উপপরিদর্শক মো. আশরাফ হোসেন তাদের জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন।

‎‎জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদনে বলা হয়, মাহিরের সঙ্গে বর্ষার দেড় বছর আগে থেকে প্রেমের সম্পর্ক। জোবায়েদ প্রায় এক বছর আগে থেকে বর্ষার টিউশনি করান। একপর্যায়ে শিক্ষকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এতে করে মাহির ও বর্ষার মধ্যে ঝগড়া বিবাদ তৈরি হয়। ঘটনার এক মাস আগে মাহির জানতে পারে, জোবায়েদের সঙ্গে বর্ষার প্রেমের সম্পর্ক আছে। বিষয়টি মাহির মেনে নিতে পারেননি। বর্ষা মাহিরকে বলেন, ‘স্যারকে তুমি মেরে ফেল, আমি আর স্যারকে সহ্য করতে পারছি না।’

এ বিষয়ে মাহির ও বর্ষা জোবায়েদকে হত্যা করার জন্য একাধিক পরিকল্পনা করে। জোবায়েদ বাসায় কখন পড়াতে আসেন এবং কখন চলে যান, সেই তথ্য নিয়মিত মাহিরকে জানার বর্ষা। মাহির তার বন্ধু আয়লানের সঙ্গে হত্যার পরিকল্পনা করে আগানগর বউ বাজার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ এলাকায় হতে ৫০০ টাকা দিয়ে একটি সুইচ গিয়ার চাকু কেনেন। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের ১৫তম ব্যাচের ছাত্র মো. জোবায়েদ হোসেন বংশাল থানার ৩১নং ওয়ার্ডস্থ নুর বক্স লেন এব ১৫নং হোল্ডিং রৌশান ভিলায় টিউশন করাতে যান। জোবায়েদ বর্ষাকে টিউশন করাতে গিয়ে বাসার নিচতলার সিঁড়ির নিচে পূর্ব থেকে ওতপেতে থাকা বর্ষার সাবেক প্রেমিক মাহির রহমান ও তার বন্ধু ফারদীন ওই সময় বাসার নিচে জোবায়েদ পৌঁছালে মাহির জোবায়েদকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি বর্ষার সঙ্গে সম্পর্ক করেন কেন?’ এতে কথা কাটাকাটি শুরু হলে মাহিরের ব্যাগে থাকা সুইচ গিয়ার চাকু বের করে গলার ডান পাশে আঘাত করে খুন করেন। এ সময় বর্ষা তিন তলায় দাঁড়িয়ে ছিল। আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতের বিষয়ে প্রত্যক্ষভাবে সাক্ষ্য প্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া যাচ্ছে। আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে ইচ্ছুক। তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করছি।

‎ঢাকার মেট্টোপলিটন মাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া আসামি বর্ষা, আরেক মেট্টোপলিটন মাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান আসামি বর্ষার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানের মেট্টোপলিটন মাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। ‎এছাড়া এদিন একজন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

‎‎অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মো. জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করাতেন। প্রতিদিনের মতো তিনি ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বংশাল থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে নুর বক্স লেনের ১৫ নং হোল্ডিং রৌশান ভিলায় পড়ানোর জন্য যান। একই তারিখে সন্ধ্যা প্রায় ৫টা ৪৮ মিনের দিকে ওই ছাত্রী জোবায়েদ হোসেনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই সৈকতকে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে জানান যে, ‘জোবায়েদ স্যার খুন হয়ে গেছে, কে বা কারা জোবায়েদ স্যারকে খুন করে ফেলছে।’ ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. কামরুল হাসান ভুক্তভোগী জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান। পরে এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থল রৌশান ভিলায় পৌঁছান। ওই ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় তিনি সিঁড়ি এবং দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। ওই ভবনের তৃতীয় তলার রুমের পূর্ব পাশের সিঁড়িতে গেলে সিঁড়ির ওপর জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় অবস্থায় দেখতে পান। পরে ময়নাতদন্ত শেষে গত ২০ অক্টোবর জোবায়েদকে কুমিল্লার কৃষ্ণপুর গ্রামে দাফন করা হয়। ওই ঘটনায় জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে রাজধানীর বংশাল থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।