Home আলোচিত সংবাদ অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নয়, আসল সংস্কারের পথে ফিরে আসুক রাজনীতি

অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নয়, আসল সংস্কারের পথে ফিরে আসুক রাজনীতি

23


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতা স্পষ্ট হয়েছে-বাংলাদেশে সংস্কারের নামে প্রায়ই শুরু হয় একধরনের রাজনৈতিক প্রতারণা। জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক প্রবর্তিত কথিত অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) আন্দোলনও সেই ধারারই সাম্প্রতিক উদাহরণ।

নাহিদের ভাষায়, এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত সংস্কার বা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের প্রশ্নকে আড়াল করা। সংবিধান সংস্কার, রাষ্ট্র পুনর্গঠন, এবং জনগণের ক্ষমতার ভারসাম্য—এসব মৌলিক ইস্যু থেকে মনোযোগ সরিয়ে এনে তারা এক বিভ্রান্তিকর আলোচনার জন্ম দেয়। বাস্তবে এটি ছিল জনগণের আন্দোলন পরবর্তী ঐকমত্য কমিশনের কাজ ব্যাহত করার এক পরিকল্পিত কৌশল।


বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কারের আলোচনায় “উচ্চকক্ষ” বা দ্বিতীয় কক্ষ গঠনের ধারণা কোনো নতুন বিষয় নয়। এটি হতে পারত জনগণের ভোটের ভিত্তিতে দলগুলোর ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের একটি গঠনমূলক ধাপ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, জামায়াত ও তাদের রাজনৈতিক সহযোগীরা এই ভাবনাকে বিকৃত করে তা কৌশলগত দরকষাকষির অস্ত্রে পরিণত করেছে। সংস্কারের পরিবর্তে তারা দলীয় স্বার্থ রক্ষার পথ বেছে নিয়েছে, যা রাজনৈতিক সততার পরিপন্থী।


জামায়াতের ইতিহাসও নাহিদের বক্তব্যকে সমর্থন করে। তারা কখনোই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রকৃত অংশীদার ছিল না-না জুলাই আন্দোলনের আগে, না পরে। বরং তাদের অবস্থান সবসময় ক্ষমতা-নির্ভর রাজনীতির কেন্দ্রে ঘুরপাক খেয়েছে। আজ সময় এসেছে রাজনীতিকে প্রতারণা ও কৌশলের কুয়াশা থেকে বের করে আনবার। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনর্গঠন কেবল কোনো দল বা ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নির্ভর করতে পারে না। এটি হতে হবে জনগণনির্ভর, নীতিনিষ্ঠ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। জনগণ আজ অনেক সচেতন।

তারা জানে, কে আসল সংস্কারবাদী আর কে সুযোগসন্ধানী। তাই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রয়োজন সত্যিকারের রাজনৈতিক সততা ও জবাবদিহি। অনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভাঁওতাবাজি নয়, এখন সময় এসেছে গণতন্ত্রের আসল ভিত্তি—জনগণের ইচ্ছা ও অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করার।