Home Uncategorized স্বপ্নের ডানায় দক্ষিণ বাংলা: প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে আশার নবপ্রভাত

স্বপ্নের ডানায় দক্ষিণ বাংলা: প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে আশার নবপ্রভাত

0


মিজানুর রহমান মিলটন।।
উপকূলের হাওয়ায় ভেসে আসছে যেন নতুন এক ভোরের সুবাস। নদীর বুকে চরের দীর্ঘশ্বাস, কিংবা বেড়িবাঁধের পাহারায় জেগে থাকা নোনা জলের মানুষের চোখে আজ শুধুই শুভ প্রতীক্ষা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর-ঝড়-ঝাপটা ও নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে সরকার গঠনের পর-দক্ষিণাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র খুলনার দাকোপ ও বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে প্রথমবার পদার্পণ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিনব্যাপী বিশেষ সরকারি সফরে তিনি পরিদর্শনে আসছেন মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প, প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের চিরহরিৎ চরাঞ্চল। এই ভূখণ্ড কেবল নোনা জলের সীমানা নয়, এটি এ দেশের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। তাই দেশের অর্থনীতির অন্যতম এই প্রাণকেন্দ্র ও উপকূলের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই পদার্পণ উৎসবের আনন্দ আর গভীর আবেগে ছড়িয়ে দিয়েছে।


মোংলা বন্দর কেবলই পলি পরা কোনো সমুদ্রসীমা নয়; এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকার ধমনী। বছরের পর বছর নানা অবহেলা ও প্রতিকূলতায় থমকে থাকা এই বন্দর আজ যেন আবারও নতুন স্পন্দনে জেগে ওঠার অপেক্ষায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শিল্প উদ্যোক্তারা প্রহর গুনছেন এক নতুন দিগন্তের। তাঁদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি-মোংলা ইপিজেড ও সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ পৌঁছাক, পশুর নদীর চ্যানেলে স্থায়ী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে চিরদিনের মতো কাটুক নাব্যতাসংকট, আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে তৈরি হোক এক স্বচ্ছ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প হিসেবে মোংলাকে বিশ্ববাণিজ্যের শীর্ষে পৌঁছানোর কার্যকর রূপরেখা এই সফর থেকেই বাস্তবায়িত হবে-এই আশার আলো জ্বালিয়ে রেখেছেন এখানকার মেহনতি মানুষ ও ব্যবসায়ী সমাজ।


সফরসূচির চিত্রে আঁকা রয়েছে এক মনকাড়া দৃশ্যপট। প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে আকাশপথে স্বচক্ষে অবলোকন করবেন বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও তার অপার নিসর্গ। এরপর তিনি অবতরণ করবেন খুলনার দাকোপের ঐতিহ্যবাহী নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে-নদীর কোলে ঘেঁষে থাকা এক দূরবর্তী জনপদে। সেখান থেকে জলপথে তিনি যাত্রা করবেন বানৌজা মোংলার পানে।


দাকোপের যে মেঠো পথে নদীর ভাঙন আর নোনা জলের দীর্ঘশ্বাস নিত্যসঙ্গী, সেখানে আজ প্রাণের স্পন্দন। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানো মানুষ, সুপেয় পানির এক ফোঁটার জন্য মাইলের পর মাইল হেঁটে চলা নারী কিংবা অবহেলিত জনপদের অসুস্থ স্বজনের সুচিকিৎসার জন্য আকুল কোনো পিতা-সবাই আজ রাজপথে চোখ পেতে আছেন। টেকসই বেড়িবাঁধের প্রতিশ্রুতি, সুপেয় পানির স্থায়ী সুবাতাস আর আধুনিক চিকিৎসার একটি আশ্বাস পেতে চায় প্রান্তিক এ জনপদের প্রতিটি হৃদয়।


প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে খুলনা ও বাগেরহাটের রূপসা, পশুর ও রূপসা নদীঘেরা বিস্তৃত অঞ্চলে বিরাজ করছে নিটোল নিরাপত্তার চাদর। নলিয়ানের হেলিপ্যাড নির্মাণ থেকে শুরু করে গ্রামীণ সড়কের সংস্কার, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বিক তৎপরতায় পুরো অঞ্চল প্রস্তুত উৎসবমুখর অভ্যর্থনায়। নীরব পাহারায় জেগে আছে রূপসী সুন্দরবনের প্রতিটি বৃক্ষরাজি ও বন বিভাগ।


যদিও এটি পুরোপুরি একটি সরকারি সফর এবং সফরসূচিতে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির আমেজ নেই, তবুও রাজপথ থেকে মেঠোপথ-সর্বত্রই যেন এক অলিখিত আনন্দের বন্যা। কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাসে ভাসছে খুলনা ও বাগেরহাটের রাজপথ। এটি কেবল একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সফর নয়; এটি অবহেলিত দক্ষিণ জনপদের বুক চিরে স্বপ্ন দেখার, ঘুরে দাঁড়ানোর এবং নতুন দিনে বিশ্বাস রাখার এক মেলবন্ধন।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই দূরদর্শী উপস্থিতি দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত জীবনের ক্ষতে যেন মলমের মতো কাজ করবে। এটি মোংলা বন্দরকে করবে গ্লোবাল হাব, আর উপকূলের দীর্ঘদিনের মেহনতি মানুষের মুখে ফোটাবে বহুকাঙ্ক্ষিত বিজয়ের হাসি-এমনই এক গভীর ভালোবাসায় পথ চেয়ে আছে পুরো দক্ষিণ বাংলা। ( লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক-দৈনিক খুলনাঞ্চল)