Home জাতীয় সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে যা বললো কনস্যুলেট

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে যা বললো কনস্যুলেট

12

ঢাকা অফিস।।

সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার নামের ওই দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মক্কার একটি মসজিদের অভ্যন্তরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে পবিত্রতা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে সৌদি গণমাধ্যমে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

তবে এ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস বা জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলকে আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। এমনকি তাদের পরিবারের পক্ষ থেকেও আইনগত সহায়তা চেয়ে কোনো আবেদন বা যোগাযোগ করা হয়নি।

গত ১৮ অক্টোবর সৌদি আরবের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠির কপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি গণমাধ্যমে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। সেখানে মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশির তা’জির হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানানো হয়। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ছিল, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের অভ্যন্তরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করা।

আগে আটক ছিলেন ভিন্ন অভিযোগে
কনস্যুলেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে কনস্যুলেটের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া একটি তালিকায় তাদের নাম ছিল। তালিকা অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম আব্দুল বশিরের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায়। তার বাবার নাম আব্দুল বশির। অন্যদিকে, সুইটি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায়। তার বাবার নাম মো. ফজল মিয়া।

তারা সৌদি আরবের আল মাজাল কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কারাগারের তালিকার তথ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলামকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সাইবার অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। সুইটি আক্তারকে একই বছরের ২ আগস্ট ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। তালিকায় নজরুলের অবস্থান জেদ্দা সংশোধনাগার এবং সুইটি আক্তারের অবস্থান জেদ্দা মহিলা কারাগার হিসেবে উল্লেখ ছিল। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে রায় ঘোষণার তথ্য থাকলেও কী ধরনের সাজা দেওয়া হয়েছিল, তা উল্লেখ করা হয়নি।

মৃত্যুদণ্ডের তথ্য জানত না কনস্যুলেট
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে সাইবার অপরাধ ও ব্যভিচারের অভিযোগে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আগের কোনো নজির কনস্যুলেটের জানা নেই। জেদ্দা কনস্যুলেটের আওতাধীন সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের নৈতিকতাসংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব সাজা সর্বনিম্ন এক মাস থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড। এ ছাড়া সাইবার অপরাধের তিনটি পৃথক মামলায় মক্কায় আটক ব্যক্তিদের সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রায়ের কপি চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষকে চিঠি
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর তাদের রায়ের কপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি নোট ভারবাল পাঠিয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রায়ের কপি পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে। সৌদি আরবের আদালতগুলোতে বিচার চলাকালে অনুবাদের জন্য দেশটির নির্ধারিত একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হয়। এ ব্যবস্থায় বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে নিয়োজিত অনুবাদকের আসামির পক্ষে বিচারিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন আসেনি
কনস্যুলেটের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য গুরুতর অপরাধে আটক বাংলাদেশিদের পরিবারের সদস্যরা সাধারণত দূতাবাস বা কনস্যুলেটে সরাসরি কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনগত সহায়তার আবেদন করেন। তবে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি।

এদিকে, সৌদি কর্তৃপক্ষও তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা কিংবা তা কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে অবহিত করেনি।