বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
সরকার গঠনের মাত্র ৮ মাসের মধ্যেই মোংলা বন্দর সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্যে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া বন্দরকে আধুনিক মানের করতে চীনের বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুফল কাজে লাগানোর জন্য, মোংলায় প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাবতা নির্ণয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে এই সফর। প্রথমবারের মত প্রধানমন্ত্রীর সফরে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশাও আকাশ চুম্বি।
স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বাগেরহাটের মোংলা বন্দর সফরে আসছেন কোনো প্রধানমন্ত্রী। সফরকে ঘিরে সবধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
সরকার প্রধানের এই সফর যতোটা না রাজনৈতিক, এই অঞ্চলের মানুষের কাছে তার থেকে বেশি অর্থনৈতিক।
গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোংলা বন্দর জেটি, সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট এলাকায় প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও প্রস্তাবিত নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করবেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে অসম্পূর্ণ জেটি নির্মাণ, ড্রেজিংসহ যেসব প্রকল্প থমকে আছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে। আর প্রস্তাবিত এলএনজি স্টেশন ও অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে স্বপ্ন বুনছেন স্থানীয়রা। দুই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এই এলাকার ব্যবসা বানিজ্যে গতি ফিরবে, পাশাপাশি দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে বিপুল পরিমান মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এমনই আশা স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের।
মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপরেটর এ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকর আলী বলেন, মোংলা বন্দরের যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর আগম সেই সম্ভাবনাকে আরও তরান্বিত করবে। আমরা বিশ্বাস করি প্রস্তাবিত নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ-ফ্লোটিং স্টোরেজ এন্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) নির্মানের মধ্য দিয়ে এই এলাকার ব্যবসা বানিজ্য সম্প্রসারণ হবে। এতে করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিচাবক প্রভাব পরবে।
অন্যদিকে মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পন্য রিকনডিশন গাড়ি আমদানি কারকদের সংগঠন বারবিডা সভাপতি আব্দুল হক বলেন, রিকনডিশন গাড়ি আমদানি করেই মোংলা বন্দরে সব থেকে বেশি রাজস্ব আয় হয়। আমদানির ক্ষেত্রে বারবিডা বৈষ্যমের শিকার হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনে বৈষম্য নিরসনে ভুমিকা রাখবে বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি শেখ সাহেদ আলী রবি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উপর চাপ কমাতে হলে, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা অবশ্যই বাড়াতে হবে। আর সেজন্য মোংলা বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধিতে ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি ব্যবসা বানিজ্যের সম্প্রসারণে মোংলা কাস্টোমস হাউস ও শুল্কো বিভাগকে আধুনিয়াকনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন এসব উদ্যোগকে আরও বেশি তরান্বিত করবে বলে জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে রাজনৈতিক নেতারা ইতিবাচক স্বপ্ন দেখছেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে মিছিল করেছে মোংলা উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে এই অঞ্চলে বিনিয়োগে আরও গতি বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি উপকূলীয় জনপদে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে কাজ হারানো বিশাল জনগোষ্ঠির বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি হবে। সবকিছু মিলিয়ে এই এলাকার অর্থনীতি, অবকাঠামো ও মানুষের জীবন যাত্রার আমুল পরিবর্তন হবে বলে মনে করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন। সকাল ৯টায় বিমানবন্দরে পৌঁছে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। সকাল ১০টায় হেলিকপ্টার থেকে হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবন এলাকা পর্যবেক্ষণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
পর্যবেক্ষণ শেষে সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন সরকার প্রধান। সেখান থেকে লঞ্চঘাটে গিয়ে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে নৌপথে বাগেরহাটের বানৌজা মোংলার উদ্দেশে রওনা হবেন।
দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে বানৌজা মোংলার জেটিতে পৌঁছে ওয়ার্ডরুমের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১টায় মধ্যাহ্নবিরতির কর্মসূচি রয়েছে। এসময় খুলনার বিভাগীয় কমিশনার এবং খুলনা ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক উপস্থিত থাকবেন। পরে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় যোগ দেবেন তিনি।
পরে বিকাল ২টা ৪৫ মিনিটে মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শনের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকাল ৩টায় জেটিতে পৌঁছে সেটি পরিদর্শন করবেন। এরপর বিকাল সোয়া ৩টায় প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। বিকাল সাড়ে ৩টায় অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।
সফর শেষে বিকাল ৪টায় হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকাল ৫টায় তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগম ঘিরে নির নিশ্চছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সব ধরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ইতোমধ্যে যেসব এলাকায় প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন করবেন সেসব এলাকায় অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তৎপরতা, এসআরবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এবারের এই সফর যেহেতু কোন রাজনৈতিক সফর নয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী যেসব এলাকায় যাবেন সেসব জায়গায় নেতাকর্মীদের তেমন ভীর থাকবে না। শুধুমাত্র নির্ধারিত উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন।










































