Home আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ছাড়িয়েও ভারতের বিনিয়োগ চায় পোল্যান্ড

প্রতিরক্ষা ছাড়িয়েও ভারতের বিনিয়োগ চায় পোল্যান্ড

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করতে চায় পোল্যান্ড। দেশটির লক্ষ্য, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পাশাপাশি নিজস্ব শিল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো।

পোল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী আন্দ্রেই দোমানস্কি ওয়ারশতে স্ট্র্যাটনিউজ গ্লোবালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিকে বাস্তব বাণিজ্যিক চুক্তিতে রূপ দিতে চায় তার দেশ।

দোমানস্কি বলেন, প্রতিরক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রযুক্তি এবং জ্বালানি খাতে দুই দেশের সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শিল্প ও প্রযুক্তি ব্যবস্থার মধ্যে নিজেদের অবস্থান কাজে লাগিয়ে ইউরোপের বাজারে ভারতীয় কম্পানিগুলোর সম্প্রসারণেও সহায়তা করতে পারে পোল্যান্ড।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ওয়ারশ।

তবে এই ব্যয় যেন শুধু বিদেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে পোল্যান্ড সরকার। বরং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গবেষণা জোরদার এবং দেশীয় কম্পানিগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে চায় তারা।
দোমানস্কি বলেন, ‘আমি চাই, এই অর্থের ব্যয় যতটা সম্ভব পোল্যান্ডেই হোক।’ তার মতে, প্রতিরক্ষা খাতকে কেন্দ্র করে এমন একটি শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপ, প্রতিষ্ঠিত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশে ভূমিকা রাখবে।

ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ডব্লিউবি গ্রুপের উদাহরণ দেন। প্রতিষ্ঠানটির চালকবিহীন প্রযুক্তি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করেছে। দোমানস্কি বলেন, পোল্যান্ড নিজেদের পণ্যের জন্য নতুন রপ্তানি বাজার খুঁজছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি ও গবেষণা-উন্নয়নেও সহযোগিতা করতে আগ্রহী দেশটি।

জ্বালানি খাতেও ভারতের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছে পোল্যান্ড। দেশটি বড় আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি ক্ষুদ্র মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর), স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক জ্বালানি প্রকল্প, বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা এবং জ্বালানি সংরক্ষণে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ওয়ারশ।

ভারতীয় কোম্পানিগুলোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশের সম্ভাব্য প্রবেশদ্বার হিসেবেও পোল্যান্ডকে তুলে ধরেন দোমানস্কি। তার ভাষায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী ভারতীয় কোম্পানিগুলোর জন্য পোল্যান্ড পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারে।

পোল্যান্ডের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিয়েও আশাবাদী দেশটির অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোক্তাদের শক্তিশালী চাহিদা, মজুরি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং ইউরোজোনের উন্নত পরিস্থিতি অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে। আগামী প্রান্তিকগুলোতে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের ওপরে থাকতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ পোল্যান্ডের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তানীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা, বিশেষ করে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দোমানস্কি। যুদ্ধ বন্ধের শর্ত কী হবে, তা নির্ধারণের অধিকার ইউক্রেনের নেতাদের বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পোল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান ও সরবরাহব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেন পুনর্গঠনেও দেশটি লাভবান হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি নরওয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার থেকে গ্যাস সরবরাহসহ বিকল্প জ্বালানি উৎস গড়ে তোলার মাধ্যমে রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমানোর কথাও তুলে ধরেন দোমানস্কি।

সব মিলিয়ে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে পোল্যান্ড। এখন দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগকে বাস্তব বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সহযোগিতায় রূপ দেওয়াই ওয়ারশর প্রধান লক্ষ্য।