আবাসিকও ব্যবহার হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে >> পাকিংও ব্যবহার হয় বাণিজ্যিক কাজে
স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনায় ইমারত বিধিমালায় বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন নির্মাণে পাকিং বাধ্যতামূলক থাকলেও বাস্তবে তা কাজে আসছে না। আবার আবাসিক ভবনগুলোও ব্যবহার হচ্ছে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে। ফলে মহানগরীর সড়কগুলো পরিণত হয়েছে পাকিংয়ের জঞ্জালে। আর এতে করে পুরো শহর জুড়ে প্রতিনিয়ত পথচারী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে অফিস চলাকালীন সময়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও নাগরিক নেতারা বলেন, পরিকল্পিত পাকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে দিন দিন সংকট বাড়বে। এজন্য ইমারত বিধিমালা কার্যকর করতে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনকে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ১৯৯৬ অনুসারে প্রতি ৩০০ বর্গমিটারে আবাসিক ও ২০০ বর্গমিটারের বাণিজ্যিক ভবনের জন্য ১১ বর্গমিটার করে পার্কিং এর স্থান রাখা বাধ্যতামূলক। ভবনের পরিসর বড় হলে পার্কিং এরিয়া এই আনুপাতিক হারে বাড়াতে হবে। এই নিয়ম মানাসহ ২৩টি শর্তে কেডিএ ভবন নির্মাণের অনুমতি নিয়ে থাকে। তবে বাস্তবে খুলনা মহানগরী অধিকাংশ ভবনের পার্কিং নেই। যেসব ভবনে আছে সেগুলিও ব্যবহৃত হচ্ছে বাণিজ্যিক কাজে। আবার আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়েও অনেক ভবন মালিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেগুলো ভাড়া দিচ্ছেন। বিশেষ করে নগরীর কেডিএ এভিনিউ, খানজাহান আলী রোড, লোয়ার যশোর রোড, সোনাডাঙা মজিদ স্মরণী, শের এ বাংলা রোড, ক্লে রোড, কেডি ঘোষ রোড, ডাক বাংলো, পিকচার প্যালেস এলাকার স্যার ইকবাল রোডের অধিকাংশ বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনগুলোর নির্ধারিত পাকিং ব্যবস্থা নেই।
এসব এলাকার ভবনগুলোতে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, ভাড়া করা গাড়ি রাখার একমাত্র ভরসা ব্যস্ততম সড়কগুলো। বিশেষ করে নগরীর ময়লাপোতা মোড়ের কেডিএ এভিনিউর সিটি মেডিক্যাল কলেজ, পপুলার ডায়গনেস্টিক সেন্টার, ডক্টরস পয়েন্ট, শান্তিধাম মোড়ের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, সোনাডাঙার মজিদ স্মরণীর একাধিক ডায়াগনেস্টিক, ক্লিনিক-হাসপাতাল, শো-রুম, শপিং মল সংলগ্ন সড়কে যানজট লেগেই থাকছে। কোন কোন সড়কের অর্ধেকের বেশী স্থান দখল হচ্ছে পাকিংয়ে। খুলনা মহানগরী সড়কে বের হলেই দেখা মিলবে যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং।
খুলনা সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ৪৫ দশমিক ৬৫ বর্গ কিলোমিটারের মহানগরীতে হোল্ডিংয়ের সংখ্যা ৭৬ হাজার ৬২৮টি। এরমধ্যে পাকা ভবনের সংখ্যা অর্ধলক্ষাধিক।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের অনেক ভালো ভালো আইন আছে। কিন্তু সেটির সঠিক বাস্তবায়ন নেই। খুলনা নগরীতে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করার সুযোগ নেই। বাণিজ্যিক বা আবাসিক ভবনে পাকিং না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে রাস্তায় গাড়ি পাকিং করছেন। এতে যানজট ভোগান্তি বাড়ছে। এখন উচিত ভবনগুলো পাকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। সাধারণ মানুষ বাণিজ্যিক কেন্দ্র বা ভবনে পাকিং পেলে নিশ্চয় রাস্তায় গাড়ি রাখবেন না। আইন বাস্তবায়নে কেডিএ, কেসিসিসহ অন্যান্য সংস্থাগুলির সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) খুলনা চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি আসিফ আহমেদ বলেন, সমস্যার মূল কারণ হলো ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অমান্য, বিকল্প পার্কিং অবকাঠামোর অভাব এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতা। এর ফলে নগরবাসীকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে নতুন ও পুরাতন ভবনে পার্কিং বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি সড়কে পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। একই সাথে প্রতিটি ভবনের জন্য কেডিএ কর্তৃক ব্যবহারযোগ্যতা সনদ বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন, যাতে অনুমোদিত নকশা ও পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত হয়।
পরিকল্পনাবিদ আসিফ আহমেদ সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসক, কেডিএ, কেসিসি ও মেট্টোপলিটন পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন মনে করেন। তিনি আরো বলেন, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন, হাঁটা ও সাইক্লিং অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অঞ্চলভিত্তিক ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট চালু করা জরুরি। শহরে ক্রমবর্ধমান অবৈধ ইজি-বাইক নিয়ন্ত্রণও জরুরি।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) প্রধান পরিকল্পনাবীদ আবির উল জব্বার বলেন, পার্কিং রাখার শর্তে ভবন নির্মাণের অনুমতি প্রদানের দায়িত্ব খূলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের । তাই অনুমোদন শর্ত বাস্তবায়ন হয়েছে কিনা তা দেখভাল করার দায়িত্ব তাদের। কেডিএ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করায় বরং সিটি করপোরেশনেরও নাগরিক সেবা দিতে অসুবিধা হচ্ছে।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথরাইজড অফিসার ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিএম মাসুদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ভবন নির্মাণের সময় ২৩টি শর্ত দিয়ে থাকে। যারমধ্যে অন্যতম শর্ত হল গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা রাখা ও তা ভবন ব্যবহারকারীদের স্বাচ্ছন্দে ব্যবহার করতে দেওয়া। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন। তারপরও পার্কিং উন্মুক্ত করতে কাজ চলছে। এজন্য ভবন মালিকদের আন্তরিক হতে হবে।











































