সৈয়দ রানা কবীর
নগরীর দৌলতপুরের যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মো: মাহাবুবুর রহমান মোল্লা হত্যাকাণ্ডের মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখনো হত্যাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এরই মধ্যে প্রায় এক মাস আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন হয়েছে। তবে হত্যা মামলায় তেমন কোন অগ্রগতি নেই। অবশ্য মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা ইনস্পেক্টর জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, পুলিশ এখন তিন কারণকে সামনে রেখে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
অপরদিকে নিহতের পরিবারের দাবি মামলাটিকে ভিন্নখাতে নিতে পুলিশের কেউ কেউ তৎপর রয়েছে। এ কারণেই ঘাতকরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
চলতি বছরের ১১ জুলাই দুপুর দেড়টায় নিজ বাড়ির সামনে মোটর সাইকেলে আসা তিন অস্ত্রধারী যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমানকে প্রথমে গুলি করে ও পরে দু’পায়ের রগ কেটে হত্যা করে মোটরসাইকেলযোগেই পালিয়ে যায়। পরদিন ১২ জুলাই নিহতের পিতা মোঃ আঃ করিম মোল্লা বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আশেপাশের সিসি ফুটেজ দেখে কিলিং মিশনের তিনজনকে শনাক্ত করে। এ ঘটনায় মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশার ওবায়দুলের ছেলে মোঃ আসিফ মোল্লা(৩২) এবং দৌলতপুরের কাজী রায়হান(৩০), সজল শেখ ও আলাউদ্দিন নামে চারজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত পরিবারের সদস্যরা পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করায় দৌলতপুর থানা পুলিশ প্রধান নাখোশ হয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের দাবি সিসি ফুটেজের তিন মোটরসাইকেল আরোহীই মাহাবুবের হত্যাকারী। তবে তাদের এখনো খুঁজে পাচ্ছেনা দৌলতপুরে পুলিশ। এ কারণে ভুক্তভোগীর পরিবারে হতাশা বিরাজ করছে। তাদের দাবি মাহাবুব হত্যার সাথে জড়িতদের সনাক্ত বা আটক করতে পুলিশ গাফিলতি করছে। তারা অদৃশ্য ইশারায় প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করছেন না। সংবাদমাধ্যম প্রকাশিত সিসি ফুটেজের মোটরসাইকেল আরোহী তিনজনকে পুলিশ ও স্থানীয়রা প্রথম থেকেই মাহাবুবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বলে জোরালো দাবি করা হয়। কিন্তু গত আড়াই মাসেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে না পরায় ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
মাহাবুবের পিতা আব্দুল করিম মোল্লা বলেন, তার সন্তান ছিল নানা রকম ষড়যন্ত্রের শিকার। তার সন্তানকে কোন মাদককাণ্ডে হত্যা করা হয়নি।
নিহতের পিতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থার উদাসীনতা ও গাফিলতির অভিযোগও করেন। পুলিশ আসল হত্যাকারী ও মুল পরিকল্পনাকারীদের সনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এমন অভিযোগ, মহেশ্বরপাশার বাজার ও পশ্চিমপাড়া এলাকার একাধিক ব্যক্তির।
তবে পুলিশের দাবি অনুযায়ী সিসি ফুটেজের তিন মোটরসাইকেল আরোহীই মাহাবুবের মুল হত্যাকারী। তাদের খুঁজে পাচ্ছে না দৌলতপুর থানা পুলিশ। এই মামলায় পুলিশ সন্দেহ করে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর জাহিদুল ইসলাম জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তার, মাদক সংক্রান্ত বিরোধ ও দলীয় গ্রুপিং এর কারণে মাহাবুবকে হত্যা করা হয়েছে। এই কর্মকর্তা ১৩ আগস্ট তদন্তের দ্বায়িত্ব নিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি প্রকৃত হত্যাকারীদের অবস্থান সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছেন বলে জানান।











































