Home স্বাস্থ্য অন্তর্বাস থেকে কি আসলেই ক্যানসার হয়

অন্তর্বাস থেকে কি আসলেই ক্যানসার হয়

37

মিলি রহমান।।


অনেকেই ভাবেন, আঁটসাঁট অন্তর্বাস—বিশেষ করে ব্রা—দীর্ঘক্ষণ পরলে শরীরে টক্সিন জমে যায় এবং তাতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে স্তন ক্যানসার নিয়ে এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই ছড়িয়ে আছে। কিন্তু এই বিশ্বাসের পিছনে আসলে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

চলুন বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জেনে নিই।

অন্তর্বাস পরা আর স্তন ক্যানসারের কোনো সম্পর্ক নেই
চিকিৎসকদের মতে, কোনো ধরনের অন্তর্বাস, যেমন অন্তর্বাস বা আন্ডারওয়্যার, ক্যানসারের কারণ হয় না। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত একটি বইয়ে দাবি করা হয়েছিল, অন্তর্বাস স্তনের লিম্ফ প্রবাহে বাধা দেয় এবং তাতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। কিন্তু পরবর্তীতে গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

বিশ্বখ্যাত ফ্রেড হাচিনসন ক্যানসার সেন্টার ২০১৪ সালে একটি গবেষণা চালায় ১,৫০০ নারীর ওপর। সেখানে প্রমাণিত হয়- অন্তর্বাস পরা বা না পরা, কত ঘণ্টা পরে থাকেন, কী ধরণের ব্রা পরেন—এর কোনো কিছুর সঙ্গেই স্তন ক্যানসারের সম্পর্ক নেই।


তবে ভুল মাপের অন্তর্বাস হলে হতে পারে কিছু শারীরিক সমস্যা

যদিও ক্যানসার হয় না, কিন্তু সঠিক মাপের অন্তর্বাস না পরলে দেখা দিতে পারে কিছু অস্বস্তি ও সমস্যাও—

  • স্তনে ব্যথা বা চাপ অনুভব
  • রক্ত চলাচলে সমস্যা
  • ভারী স্তনের ক্ষেত্রে পিঠ বা কোমরের ব্যথা

এসব সমস্যা হলে শুধু সঠিক মাপের আরামদায়ক অন্তর্বাস ব্যবহার করলেই সমাধান হয়ে যায়।

স্তন ক্যানসারের আসল কারণ কী?
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, স্তন ক্যানসারের কিছু মূল ঝুঁকি ফ্যাক্টর রয়েছে, যেমন—

পারিবারিক ইতিহাস : পরিবারের কারও স্তন ক্যানসার থাকলে ঝুঁকি বেশি।

BRCA1 ও BRCA2 জিন মিউটেশন : জিনগত কিছু পরিবর্তনও দায়ী হতে পারে।

জীবনচক্রের কারণ : অল্প বয়সে পিরিয়ড শুরু বা দেরিতে মেনোপজ হওয়া।

জীবনযাপনের ধরন : অতিরিক্ত ওজন, ব্যায়াম না করা, মদ্যপান এবং হরমোন থেরাপি।

করণীয় কী?

  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন
  • পরিবারে কেউ ক্যানসারে আক্রান্ত হলে সতর্ক থাকুন
  • স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন
  • গুজবে কান না দিয়ে সত্য জানুন

অন্তর্বাস পরে ক্যানসার হয়—এটা একটা গুজব, যার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। যদি অন্তর্বাস আরামদায়ক হয়, তবে নির্ভয়ে পরতে পারেন। শুধু টাইট বা অস্বস্তিকর অন্তর্বাস পরা থেকে বিরত থাকাই যথেষ্ট।

সত্য জানুন, সুস্থ থাকুন।

সূত্র : ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক