সাবিয়া সিদ্দিকা ।।
এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কি আছে? সত্যি কোনো হৃদয়হীনার কাছে আপনার হৃদয়ের দাম না থাকলেও আপনার কাছে আপনার হৃদয়ের মূল্য কিন্তু অমূল্য ।তাহলে কেন এত অবহেলা? আপনার হৃদয় সুস্থ আছে কিনা পরীক্ষা করেছেন? না করে থাকলে আজই করুন ।
আজ ২৯শে সেপ্টেম্বর, “বিশ্ব হৃদপিন্ড দিবস” বা “বিশ্ব হার্ট দিবস”। প্রতি বছর ২৯শে সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি পালিত হয়, যার উদ্দেশ্য হৃদরোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় উৎসাহিত করা। প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী অগণিত মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় বিধায় “ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন” ২৯ শে সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব হার্ট দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করে। ২০২৫ সালের বিশ্ব হার্ট দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হল” Don’t Miss a Beat” বা “বিড়ম্বনা এড়িয়ে যাবেন না ’’। এই প্রতিপাদ্যটি বিশ্ব হার্ট ফেডারেশন (World Heart Federation) দ্বারা নির্ধারিত এবং এর মূল উদ্দেশ্য হলো হৃদরোগের কারণে অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা । প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান বড় কারণ হল হৃদরোগ।
দিবসটি পালনের প্রধান কারণ হলো কার্ডিওভাসকুলার রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। হৃদরোগের কারণ এবং প্রতিরোধ সম্পর্কে তথ্য প্রদান । একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করা।
বিশ্ব হার্ট দিবস সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
>প্রতিষ্ঠার ইতিহাস: ১৯৯৯ সালে ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে এই দিবস প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়।
> দিনটির গুরুত্ব: এই দিনটি পালনের মাধ্যমে মানুষকে হৃদরোগের ঝুঁকি ও প্রতিকারের বিষয়ে সচেতন করা হয়।
> সচেতনতামূলক কার্যক্রম: এই দিবস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সেমিনার, আলোচনা সভা এবং গণসচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
বিশ্ব হৃৎপিন্ড সংস্থা বা ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন (World Heart Federation (WHF) সুইজারল্যান্ডের জেনেভাস্থিত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব কার্ডিওলজি (International Society of Cardiology) এবং ১৯৭০ সালে স্থাপিত ইন্টারন্যাশনাল কার্ডিওলজি ফেডারেশন (International Cardiology Federation) নামক প্রতিষ্ঠান দুটি একত্রিত হয়ে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি এন্ড ফেডারেশন অব কার্ডিওলজি (International Society and Federation of Cardiology) গঠন করে। ১৯৯৮ সালে এর নাম পরিবর্তন করে ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন রাখা হয় ।বিশ্ববাসীকে হৃদরোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ২৯শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবস (World Heart Day)পালিত হয় । হৃদরোগের কারণে মৃত্যু ঠেকাতে মানুষকে সতর্ক করা এই দিনটির উদ্দেশ্য । দিন দিন দিবসটির গুরুত্ব বাড়ছে।

হৃদরোগের কিছু উপসর্গ আলোচনা করা হল:
হৃদরোগের লক্ষণ: হার্টের অসুখ এখন যেভাবে অল্প বয়স থেকেই হয়, তাতে হার্টের বিষয়ে সচেতনা বৃদ্ধির গুরুত্ব বাড়ছে। হাই ব্লাড প্রেসার একটি বিপজ্জনক রোগ শুধু বয়স্করা নয়, কমবয়সীরাও আক্রান্ত হচ্ছে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায়। তার ফলস্বরূপ কমবয়সেই হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক । হার্ট সুস্থ রাখার তাগিদ যে শুধু বেশি বয়সেই প্রয়োজন তাই নয়, এখন অল্প বয়সে ধরা পড়ছে হার্টের নানারকম সমস্যা।
বুকে ব্যথা: হার্টের সমস্যার (heart problem) শুরু হয় অনেকসময় বুকে ব্যথার মাধ্যমে। তবে শুধু বুকে ব্যথা নয়, শরীরের অন্য ব্যথাও হার্ট অ্যাটাকের আগে অ্যালার্ট হিসেবে দেখা দিতে পারে। তবে হার্ট অ্যাটাক মানেই বুকে ব্যথা? তেমনটা না। অন্যান্য উপসর্গ নিয়েও হৃদযন্ত্রে বাসা বাঁধতে পাওে এই রোগ। যেমন হাতে যন্ত্রণা, ঘাড়ে যন্ত্রনা, পিঠে যন্ত্রণা ইত্যাদি।
শ্বাসকষ্ট: হঠাৎ শ্বাসকষ্টও হার্টের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। শুধু দৌড়াদৌড়ি করলে নয়, হালকা কাজকর্ম করলে বা বিশ্রামে থাকলেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। মনে হতে পারে শ্বাসরোধ হয়ে আসছে।
ক্লান্তি: অতিরিক্ত ক্লান্তিতেও বোঝা যায় হার্টের অবস্থা ভাল নয় । অকারণে ক্লান্তি হার্টের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে।
অনিয়মিত হৃদস্পন্দন: আপনার হৃৎযন্ত্রে যদি ধড়ফড়ানি অনুভব হয়, সতর্ক হবার সময় এসেছে । রোগী বোধ করতে পারেন, হার্ট বিট যেন স্বাভাবিক হারে পড়ছে না। অ্যারিথমিয়া বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, গুরুতর হৃদরোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
হাত পা ফোলা: পা, গোড়ালি বা পেট ফুলে যাওয়াও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমা হতে শুরু করে, হার্ট ঠিক ভাবে পাম্প করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্ত পৌঁছে দিতে পারে না।
মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: মসিÍষ্কে অপর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ কার্ডিয়াক অসুখের উপসর্গ হতে পারে। সেই সাথে মাথা ঘোরা, মাথা হালকা বোধ হওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হার্টের সমস্যার লক্ষণ হয়ে থাকতে পারে।
অতিরিক্ত ঘাম: অত্যধিক ঘাম কার্ডিয়াক অবস্থার লক্ষণ হতে পারে, বিশেষ করে যখন এটি বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গের সাথে দেখা দেয়।
বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া: হার্ট অ্যাটাক বা অন্যান্য কার্ডিয়াক সমস্যার কারণে বমি বমি ভাব অনুভব হতে পারে। এই উপসর্গটি প্রায় উপেক্ষা করা হয় বা হজম সংক্রান্ত সমস্যা ভেবে নেওয়া হয়।
শরীরের উপরের অংশে ব্যথা: বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে, উপরের পেট, বাহু, কাঁধ, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা বা অস্বসিÍ হার্টের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
ওজন বাড়া: হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়াও হৃদযন্ত্রের অসুখের লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
এই উপসর্গগুলি হতে পারে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। বুকে ব্যথা হৃদরোগের উপসর্গ ঠিকই, কিন্তু শরীরের অন্য জায়গায় ব্যথাও কিন্তু হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ হতে পারে ।
হার্টের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি: হৃদরোগ নিরাময়ের হোমিওপ্যাথিতে কিছু ঔষধ আছে যা হৃদরোগের চিকিৎসায় বেশ ব্যবহৃত হয়। তাদের মধ্যে আছে Adonis vernalis, Amylenum nitrosum, Arnica montana, Cactus grandiflorus, Convallaria majalis, Crataegus oxyacantha, Digitalis purpurea, Iberis amara, Kalmia Latifolia, Lachesis mutus, Latrodectus mactans, Laurocerasus, Lilium tig, Lycopus virginicus, Naja tripudians, Natrum muriaticum, Aurum metallicum, vanadium, Spigelia anthelmintica ইত্যাদি। কেসটেকিং করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লক্ষণ নিয়ে ওষুধ নির্বাচন করতে হবে । হোমিওপ্যাথি বিজ্ঞান ভিত্তিক এবং সবচেয়ে জনবান্ধব চিকিৎসা পদ্ধতি। হোমিওপ্যাথি উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসা করে যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম। এটি নিরাপদ, প্রাকৃতিক এবং কার্যকর । হোমিওপ্যাথিতে দক্ষতা আছে এমন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেকে ওষুধ সেবন করা প্রয়োজন। হৃদরোগ চিকিৎসায়ও আমাদের উচিৎ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা অবলম্বন করা ।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিন সুস্থ থাকুন।
সাবিয়া সিদ্দিকা (Sabia Siddika)
হোমিওপ্যাথ, ডিএইচএমএস(DHMS-FHMCH),
ফার্মগেট, ঢাকা।
E-mail: libiasabia@gmail.com










































