ঢাকা অফিস।।
রাজধানী ঢাকায় সোমবার ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। ৯ ঘণ্টায় রেকর্ড করা হয়েছে ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সকালের এই বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে দিনভর দুর্ভোগ পোহান রাজধানীর বাসিন্দারা। বিপদে পড়েন অফিস, মার্কেট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী যাত্রীরা। শুধু রাজধানী নয়, বৃষ্টি হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও। এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আগামী বুধবারও আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা আছে বলে জানা গেছে।
মূলত রোববার দিবাগত রাত থেকে ঢাকার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। রাতেই অনেক বজ্রপাত হয়। থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। এরপর সকালে শুরু হয় টানা বৃষ্টি। তীব্র বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়। সকাল থেকে বিমানবন্দর সড়ক, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, কাওরান বাজার, গ্রীন রোড, মণিপুরিপাড়া, নিউ মার্কেট, আসাদ গেট ও জিগাতলা এলাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকেও নিউ মার্কেট এলাকায় সড়কে পানি আটকে ছিল। ফকিরাপুল, কাকরাইল, মালিবাগ, রাজারবাগ ও মতিঝিলের রাস্তায় কোমর সমান পানি পার হয়ে কর্মস্থলে যেতে হয়েছে অনেককে। মিরপুর এলাকার কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মিরপুর-১০, ১৩, ১৪ ও কালশি সড়কেও পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়ে যান ওই এলাকার বাসিন্দারা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী শামীমা নাসরিন বলেন, সকালে কাওরান বাজারে অফিসে যাওয়ার পথে গ্রীন রোডে তিনি হাঁটুপানি পার হয়ে এসেছেন। পশ্চিম তেজতুরী বাজারে রিকশার পাদানি পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। ব্যাংক কর্মকর্তা হাফিজুল বলেন, মগবাজার থেকে মতিঝিল যাবো, রাস্তায় পানির উচ্চতা এত যে বাসা থেকে বের হতেই ভয় হচ্ছিল। কিন্তু চাকরির সুবাদে ঝড়-বৃষ্টি পানি মাথায় নিয়ে বের হতে হলো। বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা কেয়া সরকার বলেন, আমার প্রতিদিন অফিসে যেতে সময় লাগে ২০-২৫ মিনিট। সেখানে আজ এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। কাকরাইল থেকে মৌচাক অবধি বাসে যাওয়ার সময় মনে হচ্ছিল যেন আমি কোনো নদীর উপর দিয়ে যাচ্ছি।
এদিকে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানিয়েছে, জলাবদ্ধতারোধে ও নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে সকাল থেকে কাজ করছে সিটি করপোরেশনের কুইক রেসপন্স টিম। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, রাত হতে রাজধানীতে বজ্রসহ মুষলধারে বৃষ্টির ফলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বেশ কিছু এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ওই পরিস্থিতিতে, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রতিটি ওয়ার্ডে ডিএসসিসি’র বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করেছে। এ ছাড়া, ওয়ার্ডভিত্তিক ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম কাজ করেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন মানবজমিনকে বলেন, রোববার দিবাগত রাত থেকে সিটি করপোরশনের কুইক রেসপন্স টিম কাজ করেছে। যেসব জায়গায় জলাবদ্ধতা হয় বা হয়েছে সেসব জায়গার সমস্যাগুলো তারা নিরসনের চেষ্টা করেছে।











































