স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন নিয়ন্ত্রিত ছয়টি পার্কের মধ্যে পাঁচটিরই বেহাল দশা। অধিকাংশ পার্কে নেই পর্যাপ্ত দোলনা, রাইড কিংবা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোথাও পার্ক আছে কেবল কাগজে-কলমে। ফলে শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পিছিয়ে পড়ছে খুলনা নগরীর প্রায় তিন লাখ শিশু।
নিরালা পার্কে দেখা যায়, পুরো পার্কজুড়ে মাত্র চারটি দোলনা, যার একটি আবার ভাঙা। বেশিরভাগ অংশে নেই সীমানা প্রাচীরও। গোলকমনি ও সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কে শিশুবান্ধব বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। হাদিস পার্ক রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির কারণে শিশুরা খেলতে পারে না।
খালিশপুর শিশু পার্কটি ইজারা দেয়া হয়েছে, যেখানে প্রবেশমূল্য ও রাইড ফি নিম্নবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে। একমাত্র জাতিসংঘ শিশু পার্কে কিছু রাইড থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
ঈদের ছুটিতে জাতিসংঘ পার্কে ঘুরতে আসা এক অভিভাবক সাইফুল শেখ বলেন, ‘শিশু পার্কে আসছিলাম বাচ্চাদের ঘুরাতে, এসে দেখি শিশুদের জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই এমনিই ঘুরে বেড়াচ্ছি।’
অপর অভিভাবক মোহাম্মদ জোনায়েদ বলেন, ‘শিশুরা চায় ঘুরতে, খেলতে। কিন্তু এ নগরে শিশুদের ঘরে আটকে রাখতে হয়। বিনোদনের জন্য শিশুদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার মানসম্মত কোনো স্থান নেই।’
গোলকমনি শিশু পার্কের পাশে বসবাসরত চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবীর জানায়, প্রতিদিন পার্কে এলেও খেলার কোনো রাইড না থাকায় সে ঘুরে ফিরে চলে যায়। তার দাবি, ‘দুই-একটি রাইড থাকলে বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ভালো সময় কাটাতে পারতাম।’
খুলনা শিশু হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশের বিকল্প নেই। এজন্য পার্কগুলোতে দোলনা, রাইড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।’
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কার তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাজেটে এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হবে।’










































