স্টাফ রিপোর্টার

খুলনার আটরা-গিলাতলা শিল্পাঞ্চলে শরীফা প্রিন্টার্স এন্ড প্যাকেজার্স প্রাইভেট লিমিডেট নামের কারখানা ঘেঁষে অবৈধভাবে আবাসিক ভবনের ঝুলবারান্দা নির্মাণের সত্যতা পেয়েছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করেছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কারন দর্শানো নোটিশের জবাব দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কেডিএ স্মারক নং-২৫.৪১.০০০০.০১২.০০.১৫৮৯.২০২০-২৮৭৪/৩ তারিখ-০৯-০৯-২০ইং এ অথরাইজড অফিসার স্বাক্ষরিত পত্রে উল্লেখ করা হয়, ১৯৫২ সালের সংশোধিত ইমারত নির্মাণ আইন (১৯৮৭ সনের ১২ নং আইন) অননুমোদিত নির্মান কাজ বন্ধ রাখা এবং অননুমোদিত নির্মাণ কাজ কেন ভেঙ্গে ফেলা হবে না উল্লেখ করা হয়েছে। একই সাথে খানজাহান আলী থানাকে সরেজমিন ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে গেল ৭ সেপ্টেম্বর কেডিএ পরিদর্শক মোঃ মাহাবুবুর রহমান সরেজমিন পরিদর্শনে বাস্তব চিত্র দেখেছেন। সেই মর্মে কেডিএ’র নিয়ম বহির্ভূতভাবে আবাসিক ভবন নির্মাণ কেন করা হল, তার কারণ ব্যাখ্যা করতে কারখানার প্রতিবেশী এবং ঐ স্থাপনা নির্মাণকারী সড়ক ও জনপদ’র প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউদ্দীনকে নোটিশ করা হয়েছে। যদিও রপ্তানিমুখী হিমায়িত মৎস্য মোড়কীকরণ উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক ব্যবহার্য্যে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ৩৩ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক তার ঘেঁষে চলছে নির্মাণ কাজ। এতে যেকোন সময় ঘটতে পারে জীবনহানীসহ বড়ধরণের দুর্ঘটনা।

জানা গেছে, আটরা-গিলাতলা শিল্পাঞ্চলে শরীফা প্রিন্টার্স এন্ড প্যাকেজার্স প্রাইভেট লিমিডেটের প্রবেশদ্বারে চারতলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন বর্ধিত করছেন মৃত মোঃ আফতাব উদ্দীনের ছেলে সাতক্ষীরার সড়ক ও জনপদ’র প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউদ্দীন। কেডিএ’র নিয়মানুযায়ী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পাশেই আবাসিক ভবন নির্মাণে মাঝখানে নূন্যতম দুরত্ব তো দুরের কথা ভবনের বর্ধিত অংশ কোম্পানীর সীমানা প্রাচীর ঘেষে নির্মাণ কাজ চলছে। ফলে নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত নোংরা পানি, বালুু, সিমেন্ট, রডসহ নির্মাণ সামগ্রী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পড়ছে। নির্মাণ কাজের জন্যে ভারা বা মাঁচায় বাঁশের খুঁটি বাঁধা হয়েছে ৩৩ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক তার ঘেঁষেই। শুধু তাই নয়, নির্মাণ কাজের নামে সম্পূর্ণ বিনা অনুমতিতে কোম্পানীর সাব-স্টেশন হিসেবে ব্যবহৃত একতলা ভবনের ছাদে নির্মাণ শ্রমিক অহরহ যাতয়াত করছে। নির্মাণ সামগ্রী রাখাসহ রড ও সেনটারিংয়ের কাঠ, লোহার সীট রাখছে। অসাবধানবশত নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মকান্ডের ফলে ভবনের বর্ধিত অংশের পাশ ঘেঁষে কোম্পানীর ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক সঞ্চালন তার ও ট্রান্সফরমার সংস্পর্শে যেকোন মূহুর্তে বড়ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ ব্যাপারে কেডিএ‘র অথরাইজড অফিসার মোঃ মুজিবর রহমান বলেন, সোমবার কেডিএ’র পরিদর্শক সরেজমিনে পরিদর্শন করে রিপোর্ট দিয়েছেন। তার ভিত্তিতে অভিযুক্ত ভবন মালিক জিয়াউদ্দিনকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি স্বশরীরে এসে বা লিখিতভাবে ঘটনার ব্যাখ্যা দিবেন। তিনি আরও জানান, খুলনা থেকে নওয়াপাড়া রেল ক্রসিং পর্যন্ত কেডিএ’র সীমানা। এরমধ্যে কোন স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে অবশ্যই কেডিএ থেকে নকশা অনুমোদন নিতে হবে। নকশা বর্হিভূতভাবে এধরনের ভবন নির্মাণ করলে অবশ্যই কেডিএ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আবাসিক ভবন মালিক প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেন, ‘ভবনের ফাউন্ডেশনে নির্ধারিত জায়গা ফাঁকা রেখেছি।

উপরে উঠে একটা ঝুলবারান্দা করছি, সেটাও আমার সীমানার মধ্যেই। তারপরও যদি কোন অভিযোগ থাকে, সেটা কোম্পানীর মালিক আমাকে বলতে পারতেন। তিনি বললে, অবশ্যই আমি বারান্দা সরিয়ে নিতাম।’ শরীফা প্রিন্টার্স এন্ড প্যাকেজার্স (প্রাঃ) লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক অনিমেষ কান্তি নন্দী বলেন, তাদের নিরাপত্তা স্বার্থেই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে দুরত্ব রাখতে বহুবার অনুরোধ করেছি। তারা দুরত্ব তো রাখছেনই না, বরং ঝুলবারান্দা নির্মাণ করছেন কোম্পানীর মধ্যে এসেছে। এছাড়া উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক তারে জীবনহানীসহ মুহুর্তেই ঘটে যেতে পারে অপূরণীয় দুর্ঘটনা।











































