মোঃ রাজু হাওলাদার
ঈদুল ফিতরের উৎসবের অনুষঙ্গ হিসেবে খুলনায় বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরতে ঈদের দিন শুরু হওয়া মেলাটি আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে মেলায় গিয়ে দেখা যায়, মানুষের ঢল নেমেছে মেলার আশপাশের এলাকায়। শিশুরা অভিভাবকদের হাত ধরে তাড়াহুড়ো করে মেলার ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই। আর দোকানিরা তো ক্রেতা সামলাতে মহাব্যস্ত।
বিদায়ী বসন্তের চঞ্চল হাওয়ায় চারদিকে বইছে ঈদ আনন্দের আমেজ। এমন আমেজে শিশু, তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সীরা যাচ্ছেন খুলনার জাতিসংঘ পার্কে ঈদ উৎসবের আনন্দের সাথে মিশে যেতে।
মেলায় বিভিন্ন পণ্যের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ২০০টির বেশি স্টল রয়েছে। ১০ দিনই মেলা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে আগেই।
প্রসাধনী, খাবার, খেলনা, মিঠাই-মিষ্টান্ন, কৃষিপণ্য, মাটির পণ্য, বাঁশ ও বেতের পণ্য, লোহার পণ্য, ফার্নিচারসহ বিভিন্ন ধরনের দুই শতাধিক দোকান আছে মেলায়। আছে চটপটি-ফুচকাসহ মুখরোচক নানা পদের খাবার দোকানও। শিশুদের বিনোদনের জন্য আছে নাগরদোলা, চরকি, দোলনাসহ নানা আয়োজন। সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন সাইজের ছোট-বড় মিষ্টি।
সকাল থেকে হরেক রকম দোকান সাজিয়ে বসলেও মেলা জমে ওঠে দুপুরের পরপর। মাঠে জনসমাগম থাকে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত। স্থানীয় লোকজন জানান, দীর্ঘ বছর ধরে চলা খুলনার জাতিসংঘ পার্কের এই মেলাটি। ঈদুল ফিতরের দিন থেকে তিন দিন সাত দিন দশ দিনের জন্য এই মেলার আয়োজন করা হয়। এ সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে দোকানিরা এ মেলায় আসেন। শুধু তা–ই নয়, সারা জেলা থেকে অনেকেই সপরিবার ছুটে আসেন এ মেলায়।
মেলায় সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় আচারের দোকানে। কোনো দোকানে পাঁচমিশালি, চালতা-বরইয়ের মিষ্টি ও ঝাল আচার। আবার কোনোটাতে সাজানো তেঁতুল চাটনি, জলপাই চাটনি, আমড়ার চাটনি, আমফালির মতো ১৪ থেকে ১৫ পদের জিবে জল আসা সুস্বাদু চাটনির পসরা। কাশ্মীর নামীয় আচার বিক্রেতা বরিশাল থেকে আসা রুবেল জানান, মেলায় তরুণী ও নারীদের সমাগম সবচেয়ে বেশি। ফলে বেচাবিক্রিও ভালো হচ্ছে। প্রতিবছরই এই মেলায় দোকান নিয়ে বসেন।
মেলায় ঘুরতে আসা পূর্ব বানিয়া খামারের গৃহিণী সাবরিনা জানান, প্রতি ঈদেই জাতিসংঘ পার্কের এই মেলায় আসা হয়। ঈদের আনন্দ ছেলে মেয়েদের নিয়েই। তাই ছেলেমেয়েদের বায়নার জন্য আর আমার নিজের খুশির জন্য এই মেলায় প্রতি বছর আসি। মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে।
খুলনা জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণি ছাত্র রাফসান বলেন, আমি বাবার সাথে এই মেলায় আসছি ঘুরতে। আমার অনেক ভালো লাগছে ঘুরতে। চরকিতে ঘুরলাম, বন্ধুক দিয়ে বেলুন ফুটালাম অনেক কিছু খাওয়া দাওয়া করলাম। খুব ভালো লাগছে।
খুলনার নগরীর মদিনাবাদ এলাকার ভাজা বিক্রেতা আল আমিন বলেন, চানাচুর, বুট, খাজা, বাদামসহ ১৮-২০ রকমের ভাজা বিক্রয় করি। বেচাকিনা খুব ভালো হসছে তবে প্রথম ৩ দিন খুব ভালো চলছিল এখন একটু কম।
ঢাকা থেকে আসা মরিয়াম কসমেটিক ও খেলনা বিক্রেতা মাসুদ রানা জানান, আমরা সাধারণত বানিজ্য মেলা করে থাকি। বছরের প্রায় দিনই আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বেচাকেনা করি। আমাদের দোকানে আমি সহ সঙ্গী হিসেবে বেচাক কেনার জন্য পাঁচজন আছি। খুলনার এই জাতিসংঘ মেলায় বেচাকেনা খুবই ভালো হচ্ছে।
কুমিল্লা থেকে মেলায় কসমেটিক ও খেলনা বিক্রেতা রাজিব হাসান জানান, আমরা পাঁচ ভাই। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গার মেলায় খেলনা আইটেম ও কসমেটিক বিক্রি করা আমাদের ব্যবসা। ব্যবসা করতে যেখানে যাই আমরা এই পাঁচ ভাই যাই। তিনি আরও জানান, একবার বাসা থেকে বের হয়েছি মেলায় ব্যবসা করার জন্য আর তিন বছর পরে বাসায় গিয়েছি। টাকা থাকলেও কষ্ট লাগে। বাড়ি ছাড়া পরিবার ছাড়া আমাদের থাকতে হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রান্তে।
ঈদ উৎসব এই মেলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মরত অফিসারদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।











































