Home আঞ্চলিক মাগুরার সেই শিশুর বাড়িতে নেই ঈদ আনন্দ, কান্না করছেন মা

মাগুরার সেই শিশুর বাড়িতে নেই ঈদ আনন্দ, কান্না করছেন মা

9


মাগুরা প্রতিনিধি
সন্তানের স্মৃতি ও শোকের বোঝাই এবারের ঈদে সম্বল মাগুরার শ্রীপুরের জারিয়া গ্রামে ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যাওয়া শিশুটির পরিবারে। সবাই যখন ঈদের আনন্দে মেতে আছেন, তখন শিশুটির বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পুরনো কথা মনে করে শুধুই কান্না করছেন মা আয়েশা আক্তার।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির মা বলেন, পরিবার থেকে যদি একটা বাচ্চা চলে যায়, তার মা–বাবা কি কোন দিন ঈদ করতে পারে। আমি মা হয়ে কিভাবে ঈদ করব। তবে ঈদের দিনে শিশুটির প্রিয় খাবার ছিল খিঁচুরি, এই খাবার সে অনেক পছন্দ করত।

প্রতিবেশিরা জানান, শিশুটির পরিবার গরীব। মেয়ের শোকে ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে গোটা পরিবারে। শিশুটির মায়ের কান্না যেন থাকছেই না। বছর ঘুরে ঈদ আসলেও মেয়েটি মারা যাওয়ায় বাবাও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাকে নেওয়া হয়েছে ঢাকায়। প্রতিবেশিরাই তার খোঁজ-খবর রাখছে।

বড় বোন হামিদা সমকালকে বলেন, ঈদের আগের চাঁদ রাতে তার হাতে মেহেদি রঙে দুই হাত রাঙিয়ে দিতাম। সে নেই। তার জন্য মন খারাপ। ঈদের দিন ছোট বোনের সঙ্গে অনেক মজা করেছি। আমরা দুই বোন একসঙ্গে ঘুরতে যেতাম। আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।

প্রসঙ্গত, মাগুরায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত ৬ মার্চ ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের এক শিশু। ঘটনার পর তাকে প্রথমে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে আনা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফদিরপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেও তার অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। পরে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে শিশুটিকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ সে মারা যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বড় বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে প্রধান করে চারজনের নামে মামলা করেন শিশুটির মা আয়েশা আক্তার। এরই মধ্যে রিমান্ডে প্রধান আসামি হিটু শেখ আদলতে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।