খোঁড়াখুঁড়ি-ঈদের কেনাকাটা-ইজিবাইক ও রিকশার দাপট
স্টাফ রিপোর্টার।।
ড্রেন সংস্কারের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি এবং ঈদের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে খুলনা নগরীতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ইজিবাইক ও রিকশার দাপটে নগরীর কয়েকটি সড়কে এখন পথ চলাই যেন দায়। যানজটের কারণে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ট্রাফিক বিভাগ যানজট নিরসনে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংস্কারের জন্য নগরীর টুটপাড়া মোড়ে খানজাহান আলী সড়কের একপাশের ড্রেন খোঁড়া হয়েছে। সেই ড্রেনের মাটি ও ইট রাখা হয়েছে রাস্তার উপর। সড়কের একপাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ। ফলে অন্যপাশে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আরও কয়েকটি স্থানে ড্রেন সংস্কারের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করা হচ্ছে। শিপইয়ার্ড সড়কসহ কয়েকটি সড়ক খুঁড়ে স্যুয়ারেজ প্রকল্পের জন্য পাইপ লাইন বসাচ্ছে খুলনা ওয়াসা। এর ফলেও যানজট হচ্ছে নগরীতে।
অন্যদিকে ঈদকে সামনে রেখে নগরীতে বেড়েছে ইঞ্জিন চালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা। হাজার হাজার ইজিবাইকের কারণে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। খুলনা সিটি করপোরেশনের হিসেব অনুযায়ী নগরীতে লাইসেন্সধারী রিকশার সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার। আর লাইসেন্সধারী ইজিবাইক রয়েছে ৮ হাজার। তবে এর বাইরেও লাইসেন্স বিহীন কয়েক হাজার ইজিবাইক ও রিকশা চলাচল করছে।
নগরীর কয়েকটি রুটে বাস চলাচল করলেও নগরবাসীর প্রধান বাহন হচ্ছে রিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি ও মাহিন্দ্র। জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জেলা-উপজেলার অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ নগরীতে এসে রিকশা ও ইজিবাইক চালায়। এর পাশাপাশি ঈদকে সামনে রেখে দরিদ্র শ্রেণির কিছু মানুষ রিকশা-ইজিবাইক চালাতে নেমে পড়েছে। এই অদক্ষ চালকদের নিয়ম বহির্ভূত চালানোর কারণে নগরীতে ছোটখাট দুর্ঘটনার পাশাপাশি যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে নগরীর সিমেট্রি রোড, ধর্মসভা রোড, ফারাজীপাড়া ফুলমার্কেট মোড়, বেনী বাবু রোড, স্যার ইকবাল রোড, পি সি রায় রোড, হাদিস পার্কের মোড়, পাওয়ার হাউজ মোড়, ডাকবাংলো মোড়, খুলনা সদর থানার মোড়, পিকচার প্যালেস মোড়, ময়লাপোতা মোড়, মৌলভীপাড়া মোড়, গল্লামারী, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও সাত রাস্তার মোড়ে যানজট হচ্ছে। ঈদের কেনাকাটা উপলক্ষে নগরীর মার্কেটগুলোতে লোকসমাগম বেড়েছে। বেড়েছে নগরমুখী যানবাহনের সংখ্যা। বিভিন্ন মার্কেটের সামনে ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে। এর ফলেও যানজট বেড়েছে।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, নগরীর রাস্তার তুলনায় রিকশা, ইজিবাইক ও মাহেন্দ্রসহ ৩ চাকার যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেশি। বিশেষ করে ইজিবাইকের কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজটের কারণে লোকজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে খুলনা মহানগর বিএনপির নেতারা এক বিবৃতিতে যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, রমজান মাসের শেষার্ধে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক বিভাগের ডিভাইডার দিয়ে যান চলাচলের যে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তাতে ভোগান্তি বেড়েছে।
ঈদকে সামনে রেখে নগরীর সড়কগুলোতে মানুষের চাপ বেড়েছে। সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি, রাস্তায় নামানো অগণিত ইজিবাইক ও ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে নাকাল হতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ডেপুটি কমিশনার সুদর্শন কুমার রায় বলেন, সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি এবং ঈদের সময় মার্কেটমুখী চাপ বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি স্থানে মাঝেমাঝে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তবে যানজট নিরসনে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দিয়ে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি।









































