স্টাফ রিপোর্টার।।
আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত খুলনার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা আত্মগোপনে থাকায় জরুরি নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
সরেজমিনে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, সেবা প্রত্যাশীদের প্রচণ্ড ভিড়। তবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যান দেবব্রত মল্লিকের রুমে তালা ঝুলছে। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিধান চন্দ্র রায় আত্মগোপনে থাকায় তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো।
জানা যায়, গত ১৫ দিন ধরে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিধান চন্দ্র রায়ও আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে নাগরিকদের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদপত্র, ওয়ারিশনামার মতো জরুরি সেবা পেতে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।
জাতীয় পরিচয়পত্র করার জন্য নাগরিক সনদপত্রের প্রয়োজন নার্গিস সুলতানার। ইউনিয়ন পরিষদে তিনদিন এসেও সনদপত্র হাতে পাননি এখনও।
নার্গিস সুলতানা বলেন, ‘চেয়ারম্যান না থাকায় আমাদের ভোগান্তি হচ্ছে। আজ নিয়ে তিনদিন এসেও কাগজ হাতে পেলাম না। ওদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র খুবই প্রয়োজন। একই রকম সমস্যা নিয়ে প্রায়ই ফিরে যেতে হচ্ছে ইউনিয়নের বাসিন্দাদের।’
শুধু এই ইউনিয়ন না, সরকার পতনের পর নানা অনিয়মের অভিযোগ ও মামলা হওয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত জেলার ৬৮ ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত ২৪ জন আত্মগোপনে আছেন। এসব ইউনিয়নের কোথাও সরকারি কর্মকর্তা আবার কোথাও প্যানেল চেয়ারম্যানকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হলেও বাড়েনি কাজের গতি, তবে বেড়েছে ভোগান্তি। শুধু খুলনা জেলা পুরো বিভাগজুড়ে বিভিন্ন জেলায় এমন চিত্র।
বিশেষ করে বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়ায় এমন আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আত্মগোপনে থাকা চেয়ারম্যানের সংখ্যা বেশি।
চেয়ারম্যানদের আত্মগোপনে থাকায় কাজের গতি কমার কথা স্বীকারও করে জলমা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি নাগরিকদের সেবা দিতে। কিন্তু আমাদের তো সব ক্ষমতা নেই। আমাদের স্বাক্ষরে তো কাজ হবে না, জনপ্রতিনিধিদের স্বাক্ষর লাগবে। তাদের নিয়মিত উপস্থিত না হতে পারা তো কিছুটা কাজের ব্যাঘাত ঘটবে।’
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সঞ্জয় কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘সদস্যদের মধ্যে থেকে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি আর চেয়ারম্যানের মতো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। সদস্যদের তো আর সেই অভিজ্ঞতা নেই। আমাদের সদস্যদের ওপরও বাড়তি কাজের চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে নাগরিক সেবায় কিছুটা ভোগান্তি আছে।’
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, ‘ইউনিয়নগুলোতে নাগরিক সেবা ভেঙে পড়েছে। চেয়ারম্যান, সদস্যদের নতুন করে আত্মগোপনে যাওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারকে আরও ভালোভাবে দৃষ্টি দিতে হবে এদিকে। সরকারকেই উদ্যোগ নিয়ে যেখানেই সমস্যা দেখা দেবে সেখানেই প্রশাসক নিয়োগ দিতে হবে।’
খুলনা বিভাগের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মো. হুসাইন শওকত বলেন, ‘আমরা পুরো বিভাগের নাগরিক সেবার বিষয়টি তদারকি করছি। কোথাও কোথাও নতুন করে সদস্য বা চেয়ারম্যানদের আত্মগোপনে চলে যাওয়ার খবর পাচ্ছি। এক্ষেত্রে যেখানেই কাজের গতি কমে যাওয়ার খবর পাচ্ছি সেখানেই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নতুন করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।’
খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদে সম্প্রতি ৯৫ জন প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।











































