স্পোর্টস ডেস্ক
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে স্মরণীয় জয়ে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখল আফগানিস্তান। লাহোরে বুধবার ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি নকআউটে পরিণত হওয়ার পর আফগানরা ৮ রানে জয় পায়।
ইব্রাহিম জাদরানের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির রেকর্ড ১৪৬ বলে ১৭৭ রানের ইনিংসে আফগানিস্তান ৫০ ওভারে ৭ উইকেট ৩২৫ রান করে। জবাবে জো রুটের দারুণ সেঞ্চুরির পরও এক বল বাকি থাকতে ৩১৭ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
আফগানদের আরেক পেস বোলিং অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাই প্রথমে ছয়ে নেমে ৩ ছক্কা ও এক চারে ৩১ বলে করেন ৪১ রান। পরে দারুণ বোলিংয়ে নেন ৫ উইকেট। আফগানিস্তানের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে পঞ্চাশ ওভারের আইসিসি টুর্নামেন্টে পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়লেন ২৪ বছর বয়সী ওমারজাই।
আফগানিস্তানের ইংলিশদের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় জয় এটি। দুই দলের আগের দেখায় ২০২৩ বিশ্বকাপে দিল্লিতে ৬৯ রানের অবিস্মরণীয় জয় পেয়েছিল তারা। এই সংস্করণে দুই দলের চারবারের দেখায় প্রথম দুটিতে ইংল্যান্ডের জয়ের পর দুটি জিতল আফগানরা।
এদিন শেষ পাঁচ ওভারে ৪ উইকেট হাতে রেখে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৪৮ রান। সেঞ্চুরি করে উইকেটে তখনও রুট। ম্যাচ অনেকটা হেলে তখন ইংলিশদের দিকেই।
তবে ওমারজাইয়ের দুই ওভারে পাল্টে যায় চিত্র। ৪৬তম ওভারে শেষ স্পেলে বোলিংয়ে ফিরে রুটকে বিদায় করে বড় বাধা দূর করেন তিনি। নিজের পরের ওভারে এসে বিদায় করেন আরেক বাধা হয়ে থাকা জেমি ওভারটনকে। শেষ ওভারে আদিল রাশিদকে ফিরিয়ে ম্যাচের ইতিও টেনে দেন তিনিই। শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের ১৩ রানের প্রয়োজনে ওমারজাই দেন কেবল ৪ রান। কাজে এলো না রুটের ১১ চার ও এক ছক্কায় গড়া ১১১ বলে ১২০ রানের চমৎকার ইনিংস। ওয়ানডেতে ৩৭ ইনিংসের মধ্যে তার প্রথম ও ক্যারিয়ারের ১৭তম সেঞ্চুরি এটি। এই ম্যাচের আগে সবশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি ২০১৯ বিশ্বকাপে।
আসরে প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৫১ রান করেও হারের পর এবারের এই পরাজয়। ২০০৯ সালের পর এই প্রথম ওয়ানডেতে টানা ছয় ম্যাচে হারের তেতো স্বাদ পেল ২০১৯ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দলটি।
ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় বাজে। চতুর্থ ওভারে ওমরজাইয়ের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ফিল সল্ট। তিনে নেমে আবারও ব্যর্থ হন জেমি স্মিথ। তাকে ফিরিয়ে ওয়ানডেতে টানা তৃতীয় ম্যাচে বোলিংয়ে এসে প্রথম বলে উইকেটের স্বাদ পান নবী।
সপ্তম ওভারে ৩০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। সেখানে থেকে ৬৮ রানের জুটিতে দলকে টেনে তোলেন রুট ও বেন ডাকেট। প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ডাকেট এবার ফেরেন ৪৫ বলে ৩৮ রান করে। রাশিদ খানের বলে রিভিউ নিয়ে ফেরায় আফগানরা।
এ দিন ৪ রানে পৌঁছেই ওয়ানডেতে এক হাজার রান পূর্ণ করেন ডাকেট। ২১ ইনিংসে মাইলফলকটি ছুঁলেন তিনি, ইংল্যান্ডের হয়ে যা কেভিন পিটারসেনের সঙ্গে যৌথভাবে দ্রুততম। বিশ্বে যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুততম।
ইংল্যান্ডকে লড়াইয়ে রাখেন রুট ও জস বাটলার। পঞ্চম উইকেটে ৯১ বলে ৮৩ রানের ইনিংস সেরা জুটি গড়েন তারা। শর্ট বলে বাটলারকে (৪২ বলে ৩৮) ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন ওমারজাই।
লিয়াম লিভিংস্টোনকে টিকতে দেননি গুলবাদিন নাইব। আশা বাঁচিয়ে রেখে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিল রুট ও ওভারটনের জুটি। কিন্তু ৫৪ রানের এই জুটি ভাঙার পরই ধীরে ধীরে লড়াই থেকে দূরে সরে যায় ইংল্যান্ড। হারে আসর শুরুর পর দারুণ জয় সঙ্গী করে মাঠ ছাড়েন রশিদ-নবীরা।
বিশ্বকাপের পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি; আইসিসির টানা দুটি পঞ্চাশ ওভারের টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের বিষাদ সঙ্গী হলো তাদের।
এর আগে টস জিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন আফগান ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান। আর উইকেটে টিকে রইলেন শেষ ওভারের প্রথম বল পর্যন্ত। মাঝখানে দুর্দান্ত ব্যাটিংশৈলীতে গড়লেন ইতিহাস।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ইব্রাহিম ভাঙলেন কিছুদিন আগেই করা বেন ডাকেটের রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৬৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ইংলিশ ব্যাটার ডাকেট। অবশ্য সেই ম্যাচে ৩৫১ রান করেও হেরেছিল ইংল্যান্ড। ইব্রাহিম এদিন নিজের একটি রেকর্ডও ভাঙেন। ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানে নিজের আগের করা ১৬২ রান ছাড়িয়ে গেলেন তিনি।
যদিও পাটা উইকেটে ব্যাট করতে নেমে দ্রুতই ৩ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। ৩৭ রানের মধ্যে ফিরে যান রাহমানুল্লাহ গুরবাজ, সেদিকুল্লাহ আতাল ও রহমত শাহ। ব্যাটিং ইনিংসে সেটিই আফগানদের একমাত্র চাপ। এরপরে দেখা গেল শুধু আফগান আধিপত্য। চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক হাশমাতুল্লাহ শাহিদিকে নিয়ে ১০৩ রান যোগ করেন ইব্রাহিম।
১৪০ রানের মাথায় ৬৭ বলে ৪০ রান করে হাশমাতুল্লাহ ফিরলে রানের গতি আরও বাড়ে দলটির। পঞ্চম উইকেটে ওমারজাইকে নিয়ে মাত্র ৬৩ বলে ৭২ রান যোগ করেন ইব্রাহিম। ৩১ বলে ৪১ রান করে আউট হন ওমারজাই। ৪০ ওভার শেষে দলীয় ২১২ রানের মাথায় ফেরেন তিনি।
আফগান ইনিংসে সবচেয়ে মূল্যবান জুটি গড়েন ইব্রাহিম ও মোহাম্মদ নবি। দুজনে মিলে মাত্র ৫৫ বলে যোগ করেন ১১১ রান। অর্থাৎ, বলপ্রতি প্রায় ২ রান করে নেন এই দুজন। এই জুটিতে মাত্র ২৪ বলে ৪০ রান যোগ করেন নবি। আর শেষ ওভারের প্রথম বলে আউট হওয়ার আগে ১৪৬ বলে ১৭৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ফেরেন ইব্রাহিম। ১২টি চার ও ৬ ছক্কায় সাজানো ছিল অসাধারণ এই ইনিংস।
লিয়াম লিভিংস্টোন ছাড়া কোনো ইংলিশ বোলারই এদিন ইকোনমি ছয়ের নিচে রাখতে পারেননি। ৫ ওভারে ২৮ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট নেন তিনি। জোফরা আর্চার ৩ উইকেট নিলেও ১০ ওভারে দিয়েছেন ৬৪ রান।











































