Home জাতীয় আব্দুল হাই বাচ্চু ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের ৪ মামলা

আব্দুল হাই বাচ্চু ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের ৪ মামলা

16

ঢাকা অফিস।।

অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনসহ কানাডায় অর্থপাচারের অভিযোগে বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে পৃথক ৪টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় আড়াই শ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন, প্রায় ৫৯ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং প্রায় ৫৮ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে।

রোববার দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলাগুলোতে অন্য আসামিরা হলেন বাচ্চুর স্ত্রী শিরিন আকতার, ছেলে শেখ ছাবিদ হাই অনিক ও মেয়ে শেখ রাফা হাই। তারা পরস্পর যোগসাজশে মোট ১৪৮ কোটি ২৫ লাখ ২৯ হাজার ৮৯০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে তারা বিদেশে পাচার করেছেন ৫৭ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার ৭৯৯ টাকা এবং দুদকে জমা দেওয়া হিসাব বিবরণীতে ৫৮ কোটি ৬৫ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে দুদক থেকে জানানো হয়।

মামলার তথ্য থেকে জানা যায়, শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে ১২৪ কোটি ৯৩ লাখ ৬ হাজার ২৭৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে তিনি ৫৬ কোটি ১৬ লাখ ৬০ হাজার ২৬০ টাকার তথ্য গোপন করে বিদেশে পাচার করেছেন।

অন্যদিকে দ্বিতীয় মামলায় শিরিন আকতারের বিরুদ্ধে করা মামলায় ৩৬ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন ও বিদেশে অর্থ পাচারের কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

তৃতীয় মামলায় শেখ ছাবিদ হাই অনিকের বিরুদ্ধে করা মামলায় মোট ৪৪ কোটি ৭৮ লাখ ৩৭ হাজার ৬৮৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে তিনি ১ কোটি ১৬ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৮৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭ টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।

এছাড়া চতুর্থ মামলায় রাফা হাইয়ের বিরুদ্ধে করা মামলায় ৪২ কোটি ২ লাখ ৫১ হাজার ৬২৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে তিনি ১ কোটি ১৬ লাখ ৬ হাজার ৪৬২ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৭৪ লাখ ৮১ হাজার ৪৬২ টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।

স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলায় আব্দুল হাই বাচ্চুকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল হাই বাচ্চুকে ২০০৯ সালে এক সময়ের লাভজনক ব্যাংক বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

এরপর থেকে ব্যাংকটির ঢাকার গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখায় বড় অঙ্কের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটতে থাকে।

২০২৩ সালের ১২ জুন বেসিক ব্যাংকের আলোচিত সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুসহ ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দেয় দুদক। সংস্থাটির দায়ের করা মোট ৫৯ মামলার চার্জশিটের মধ্যে ৫৮টি মামলার তদন্তে নতুন আসামি হিসেবে আবদুল হাই বাচ্চু ও কোম্পানি সচিব শাহ আলম ভূঁইয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ ২০১৫ সালে দায়ের করা কোনো মামলাতেই বাচ্চুকে আসামি করা হয়নি। যে কারণে দুদককে বারবার বিভিন্ন প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছে। মামলার দীর্ঘ ৮ বছর পর চার্জশিটে আবদুল হাই বাচ্চুকে আসামি করা হয়।