Home আঞ্চলিক নানা সংকটে খুলনার ৫০ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, দুর্দশা কাটবে কবে?

নানা সংকটে খুলনার ৫০ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, দুর্দশা কাটবে কবে?

27

স্টাফ রিপোর্টার।।


খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৫০টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেশিরভাগই ৫০ শয্যা বিশিষ্ট। নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ পর্যাপ্ত জনবল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতিও বেশিরভাগ অকেজো। নানা সংকট মাথায় নিয়ে চলছে বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো। এতে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা মিলছে না রোগীদের। যদিও সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।


সংশ্লিষ্টরা জানান, খুলনার রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর রুমে ১২ বছরের বেশি সময় ধরে তালাবদ্ধ এক্সরে মেশিন। একই চিত্র পাশের উপজেলা তেরখাদাতেও। এখানে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও সার্জন না থাকায় দুই বছরের বেশি সময়ে কোনো অস্ত্রোপচার হয়নি। কমপ্লেক্সের মূলভবনটি জরাজীর্ণ, খসে পড়ছে পলেস্তারা।

শুধু এ দুটি নয়, জেলার ৯ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে নানা সমস্যা। আধুনিক অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হলেও সাত উপজেলায় হয় না অপারেশন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতিও বেশিরভাগ অকেজো। এ ছাড়াও রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ পর্যাপ্ত জনবল সংকট। কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা মিলছে না রোগীদের। শুধু জেলা নয়, খুলনা বিভাগের বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, মেহেরপুরসহ বেশিরভাগ জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর একই অবস্থা।

মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, বাগেরহাটের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র ঊর্ধ্বতন মহলে পাঠানো হলেও মিলছে না সমাধান।

রোগীরা বলেন, ‘জরুরি অপারেশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হয় না। ঠিকমতো ওষুধ পাওয়া যায় না, চিকিৎসকও নেই। এখানে অপারেশন ব্যবস্থা থাকলে আমাদের সুবিধা হতো। বাইরে গেলে যেখানে ২০ হাজার খরচ হয়; এখানে সেটা ৫ হাজারে সম্ভব হবে। এলাকায় হওয়ায় ভোগান্তিও কম হবে।’

খুলনার রূপসা উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মাজেদুল হক কাওছার বলেন, ‘এখানে এক্সরে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম যন্ত্রটি অচল অবস্থায় আছে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন মহলে চিঠিও দেয়া হয়েছে।’

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো খুব দুর্দশার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। একজন নারী চিকিৎসকের পক্ষে টানা ডিউটি করা অনেক কঠিন হয়ে যায়। এ বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি সমাধান হবে।’

সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানোর ‍জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগের কথা জানান খুলনার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মো. কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর চিকিৎসক ও জনবল কি অবস্থায় আছে আমরা সবসময় জানাচ্ছি। এটা যারা নীতিনির্ধারক আছেন, তারা যদি বিষয়টা সেভাবে গুরুত্ব দেন তাহলে হয়তোবা দ্রুত সমাধান হবে।’