মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মণিরামপুরে বোরো ধান-চাল সংগ্রহের সময় শেষ হয়েছে গত সোমবার। এরই মধ্যে সংগ্রহ কাজে ব্যর্থ হয়েছে গুদাম কর্তৃপক্ষ। ফলে বোরো মৌসুমে সরকারের ধান চাল কেনার লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়নি। চারমাসে মাত্র ১১ মে.টন ধান আর ৪৪০ মে.টন চাল সংগ্রহ হয়েছে।
বোরো মৌসুমে মণিরামপুরে লটারির মাধ্যমে কৃষকের কাছ থেকে এক হাজার ৪০ টাকা মণ দরে চার হাজার মে.টন ধান ও ৩৬ টাকা কেজি দরে মিলারদের কাছ থেকে দুই হাজার ৬৮০ মে.টন চাল সংগ্রহের জন্য খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় সরকার। গত ২৬ এপ্রিল থেকে সময় শুরু হয়ে চলে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত। কিন্তু প্রায় একমাস পর ২০ মে মণিরামপুরে শুরু হয় ক্রয় কাজ। এরপর সামনে আগায়নি ধান চাল সংগ্রহের কাজ। টনের বিপরীতে অগ্রিম ২০ হাজার টাকা করে ঋণ দিয়েও কৃষকদের গুদামে ভেড়ানো যায়নি।
খোলা বাজারে ধানের চড়া দাম, বৈরি আবহাওয়া, খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষের প্রচরণায় অবহেলা ও হয়রানির ভয়ে কৃষকরা গুদামে ধান নিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। লটারির তালিকাভুক্ত মাহমুদকাটি গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী বলেন, লটারির ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। ধান নিয়ে গেলে নানা কারণে কয়েকদিন ধরে ঘুরতে হয় তখন আর গুদামে ধান দিতে মন চায় না। তারপরেও আমরা বাজারে ধানের ভাল দাম পেয়েছি। বর্তমানে প্রতিমণ ধান এক হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পল্লীসঞ্চয় ব্যাংক থেকে তিন মাসের জন্য ২০ হাজার টাকা করে ঋণ নিয়েছেন লটারি তালিকাভুক্ত ৩০ জন কৃষক। তারা সবাই গুদামে ধান দেবেন বলে এই ঋণ নিয়েছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে দুই জন কৃষক গুদামে ধান দিয়েছেন। বাকিরা বাজারে ধান বিক্রি করে ঋণ শোধ করছেন।
এদিকে ৩৬টাকা কেজি দরে দুই হাজার ৬৮০ টন বোরো মৌসুমে চাল সংগ্রহের লক্ষে মণিরামপুরের ৪৪ জন মিলার সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তারাও নির্ধারিত সময়ে চাল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমানে ৪৩ টাকার নিচে কোন চাল বিক্রি হচ্ছে না; যা সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি আট টাকা বেশি। ফলে মিলারদের তিনি দফা শোকজ করেও চালের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়নি। সেখানেও মিলাররা ধানের দামের উর্ধ্বগতি, বৈরি আবহাওয়া ও করোনাকালীন শ্রমিক সংকটকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মণিরামপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন হোসেন খান বলেন, বাজারে ধানের চড়া দাম হওয়ায় কৃষকরা গুদামে ধান নিয়ে আসেননি। এই পর্যন্ত ১১ মে.টন ধান সংগ্রহ হয়েছে। বাজারে চালের দাম বেশি থাকায় চালকল মালিকরা চাল দিচ্ছেন না। তাদের তিনদফা শোকজ করা হয়েছে। চাল সংগ্রহের জন্য আরো ১৫ দিন সময় বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। আশা করি এই সময়ের মধ্যে চালের টার্গেট পূর্ণ হবে।











































