আসাদুজজামান আসাদ, ফকিরহাট
কলার পাতা বিক্রির মাধ্যমেই সুদিন এসেছে রাসেলের সংসারে।কলার পাতা বিক্রি করেই রাসেল এখন স্বাবলম্বী। বৈচিত্রময় পৃথিবীর বহু ব্যবসার মাঝে শুধুমাত্র কলার পাতা বিক্রি করতে গিয়ে রাসেলও এখন একজন ব্যবসায়ী। কলার পাতা সাপ্লাইয়ে যুক্ত হয়ে রাসেলের ব্যাবসায় সহযোগিতা করে আরো অনেকেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে।দেশের দক্ষিণের জেলা বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ফলতিতায় মাছের মার্কেটে ঘুরে এমন তথ্য-চিত্রই সামনে এসেছে।
শ্বেত-স্বর্না রুপালি চিংড়ির খনি, বাংলার কুয়েত খ্যাত ফকিরহাট এখন আরো প্রসিদ্ধ ফলতিতা বাজারের সাদা মাছের পাইকারী আড়তের কারনে। শতাধিক আড়তে প্রতিদিন হাজারো মাছচাষী, ব্যবসায়ী-পাইকার এখানে আসে টন-টন রুই কাতলা মৃগেল সহ যাবতীয় সাদা মাছ সংগ্রহে।কোটি টাকার বেচা-কেনা হয়ে ফলতিতা থেকে সাদা মাছের চালান হয় রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।চালান হবার প্রাক্কালে ওই মাছ বরফজাত করতেই কলার পাতার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে।মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে তখনই কদর রাসেলদের।কলার পাতার বিকল্প না থাকায় মাছ বাজারজাত করতেই বারোমাস তাই তার চাহিদা বাড়ছে দেদারসে।
ফলতিতা মাছ বাজারে রাসেলের মত বেশ কয়েকজন কলাপাতা ব্যবসায়ী রয়েছে। ওইসব ব্যবসায়ীদের আবার গ্রামান্চলে নিজস্ব টিম রয়েছে। গ্রামে বাড়ীতে বাড়ীতে ঘুরে একটি পাতা একটি টাকায় ক্রয় করে ছয় খন্ডে ভাগ করে একশো পিসের একেকটা বান্ডিল তৈরী করে তারা নিয়ে আসে রাসেলদের কাছে।রাসেলরা সেই বান্ডিল তিনশো টাকায় কিনে নিয়ে বেচে দেয় পাঁচশো টাকায়। কলার পাতার ব্যাবসা কেমন জানতে চাইলে রাসেল জানায়,”ব্যবসা ভালো।তবে আগের মত এখন আর কলাপাতা সহজে মেলেনা। ঝড়-বাদলে ছিড়ে যাওয়া পাতাও তেমন চলেনা।একসময় নিজে জোগাড় করে এনে বেচে দিতাম।এখন কিনে ব্যবসা করি।বউ-বাচ্চা নিয়ে ভালোই আছি “।
এভাবেই কলার পাতা ফকিরহাটে জীবন সাজায় সৌভাগ্য হয়েই।”কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত” কথাটি আজ বদলে যাবার কাহিনী সাজাচ্ছে ফকিরহাটেই।











































