মোঃ জাহিদুর রহমান সোহাগ, দাকোপ
খুলনার দাকোপে ১৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এ ধানের চাষ করেছেন। অসময় খুব ভাল ফলন ও দাম পেয়ে কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক।
এলাকাবাসী ও উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার চালনা, পানখালী, তিলডাঙ্গা, কৈলাশগঞ্জ, বানিশান্তা, বাজুয়া, কামারখোলা এলাকায় এ আউশ ধানের চাষ করা হয়েছে। প্রায় ৭৫জন কৃষক এ চাষাবাদ করেছেন। এর মধ্যে ৫৫জন কৃষক উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগীতা পেয়েছেন। সবে মাত্র আউশ ধান কাটা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ আবার ধান কাটা শেষ করে বাম্পার ফলন পেয়ে বেশ খুশি মনে আমন রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমান অভাবের দিনে ৩৩ শতকের বিঘা প্রতি ১৭ থেকে ১৮ মন ধান পেয়ে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছেন এসব কৃষকরা।
তিলডাঙ্গা এলাকার কৃষক মিঠু গাইন বলেন, তিনি দুই বিঘা জমিতে আউশ ধানের চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তিনি সার ও বীজধান সহযোগীতা পেয়েছেন। সবে মাত্র তিনি অল্পকিছু ধান কেটেছেন। তবে বিঘা প্রতি তিনি ১৮ থেকে ২০ ধান পাবেন বলে আশা করেন। বর্তমান বাজারে ধানের দাম ভাল হওয়ায় খরচ বাদ দিয়েও তিনি লাভবান হবেন। তাছাড়া অভাবের সময় তিনি প্রায় ৪০ মন ধান পেয়ে খুব খুশি। আগামীতে তিনি আরো বেশি জমিতে চাষ করবেন বলে জানান।
উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মিজানুর রহমান জানান, এবছর বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা ব্রি-ধান ৪৮ ও ২৮ জাতের ধান চাষ বেশি করেছেন। আর সবচেয়ে ভাল ফলন হয়েছে ৪৮ ধানে। তবে ইঁদুরের অত্যাচারে কৃষকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। শত চেষ্টা করেও ইঁদুর দমন করা যাচ্ছে না। সময়মত ইঁদুর দমন করতে পারলে এলাকার কৃষকরা আরো বেশি লাভবান হতো বলে তিনি মনে করেন।
এব্যাপারে উপজেলা সিনিয়র কৃষি অফিসার মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন এবছর রবি ফসল, বোরো ও আউশের ফলন তুলনা মূলক খুব ভাল হয়েছে। কিন্তু এই এলাকার কৃষকরা সবচেয়ে বেশি রবি ও আমন চাষ করে। আউশ চাষ বেশি করতে চায় না। তারপরও তিনি প্রতি বছর এ চাষ যাতে বৃদ্ধি পায় সে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আগামীতে তিনি নিজে এলাকায় এলাকায় গিয়ে আউশ চাষে আরো বেশি কৃষকদের উৎসায়িত এবং সহযোগীতা করবেন বলে জানান।











































