Home আঞ্চলিক হাক-ডাকে কালীগঞ্জের চিত্রানদীর পাড় উৎসবমূখর

হাক-ডাকে কালীগঞ্জের চিত্রানদীর পাড় উৎসবমূখর

18


সাবজাল হোসেন, কালীগঞ্জ
সকাল থেকেই হাক-ডাক। সকলের মুখে একই কথা, চলো -চলো চিত্রায় চলো। এ সাড়া পাশাপাশি ৪-৫ গ্রামের মানুষের মধ্যে। তারা মাছ ধরার পলো নিয়ে একত্রিত হয়েছিল আলাইপুর পশ্চিমপাড়ার নদীর ঘাটে। মাছ ধরতে সেখান থেকেই তারা নদীতে পলো বাওয়া শুরু করেন। শীতে নদীর পানি বেশ ঠান্ডা। এতে শরীরে কাঁপুনী ধরলেও মাছ ধরার আনন্দে কোনভাবেই তাদের কাবু করতে পারেনি। এদিকে মাছ ধরা মানুষগুলোর হই-হুল্লোড়ে উৎসুক সব বয়সী মানুষ জড়ো হয়ে নদীপাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। এভাবে শনিবার সকালে মাছ ধরার উৎসবে মেতে ওঠে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের চিত্রা পাড়ের শ্রীরামপুর, চাপালী, আলাইপুর,সিংদহসহ কয়েক গ্রামের মানুষ।
কালীগঞ্জের শ্রীরামপুর গ্রামের রওশন আলী জানান, তার বয়স ৬১ বছর। আগে চিত্রানদীতে মাছ ধরেছেন। এখন নদীতে তেমন একটা পানি থাকে না। কিন্ত এ বছর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি হয়েছে। ফলে এখন নদীতে বেশ পানি আছে। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় নদীতে মাছও এবার বেশি। তাই মাছ ধরতে গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ পলো কিনেছেন। ইতোমধ্যে তারা আমন ধান ঘরে তুলে ফেলেছেন। তাই সকলের সঙ্গে কথা বলে নদীতে মাছ ধরার আনন্দ উপভোগ করতে এসেছেন।
চাপালী গ্রামের শাকিল হোসেন জানান, মাছ ধরার আনন্দটা কাউকে বলে বোঝানো যাবে না। মাছ ধরতে গিয়ে পেলেন বা না পেলেন তা বড় কথা নয়। দলবদ্ধভাবে নদীতে নেমে আনন্দ করাটাই বড় কথা। তিনি বলেন, ছোটবেলায় তাদের গ্রামের মানুষদেরকে হাক-ডাক ভেঙে পলো দিয়ে নদী ও বিলে মাছ ধরতে দেখেছেন। এখন সে আনন্দ আর নেই।
কৃষি অফিসপাড়ার মিশন আলী জানান, মাছ ধরতে এসে মাছ পাননি ঠিকই। কিন্ত যে আনন্দ পেয়েছেন তা কোন কিছুর বিনিময়ে অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, গ্রামের সব শ্রেণীর মানুষ মিলে দলবদ্ধভাবে একটি কাজ করলে সে কাজে আনন্দ বেশি থাকে।
আলাইপুর গ্রামের ফিরোজ বিশ^াস জানান, মাছ ধরা এবং মাছ ধরা দেখা উভয়ই আনন্দের ব্যাপার। তিনি মাছ ধরা দেখতে এসেছেন। বেশ আনন্দ লাগছে। তিনি বলেন, এখন বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টি তেমন একটা হয়না। তাছাড়াও চারপাশে চিত্রানদী ভরাট হয়ে গেছে। আর উন্মুক্ত জলাশয় এখন পাওয়াই যায় না বলে চলে। ফলে মাছ ধরার আনন্দও আজ বিলীন হয়ে গেছে। অথচ এক সময় এ নদীতে মাছ ধরে জেলেরা সংসার চালাতো। নদী তীরের মানুষ সারাবছর মাছ ধরে মাছের চাহিদা মেটাতো। এখন তার কিছুই নেই। এ বছর নদীতে বেশ পানি। অনেক লোকজন নদীতে মাছ ধরছে। তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতেই তিনি এসেছেন।