Home খেলাধুলা জাকেরের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের লড়াকু পুঁজি

জাকেরের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের লড়াকু পুঁজি

13


স্পোর্টস ডেস্ক

ব্যাট হাতে সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্তরা দৃঢ়তা দেখালেও রান তুলেছেন ধীরগতিতে। এর মধ্যে ফিফটি তুলে নিয়েছেন শান্ত। তবে ইনিংসের শেষের দিকে দ্রুতগতিতে রান তুলে সেই প্রভাব কিছুটা হলেও কমান জাকের আলী। তার ইনিংসের ওপর ভর করেই ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫২ রানের লড়াকু পুঁজি তোলে বাংলাদেশ।

আগের দিনে পরে ব্যাট করে হারতে হয়েছে, তাই আজ টসে জিতে ব্যাটিং নিতে দুইবার ভাবেননি শান্ত। সিরিজ বাঁচানোর এই লড়াইয়ে ইনজুরির কারণে ম্যাচে খেলতে পারছেন না অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। তার পরিবর্তে অভিষেক হয়েছে জাকের আলীর। অন্যদিকে, লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের জায়গায় খেলছেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ।

এদিন শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করতে থাকেন তানজিদ হাসান তামিম। আরেক পাশে স্থির ছিলেন সৌম্য। একের পর এক বাউন্ডারি আদায় করে বাংলাদেশের ইনিংসের রানের চাকা সচল রাখেন তিনি। তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি এই ইনিংস। আল্লাহ গাজানাফারের করা চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকানোর পরের বলেই আউট হন জুনিয়র তামিম। দলীয় ২৮ রানে বিদায় নেওয়ার আগে ১৭ বলে ৩টি চার ও ১ ছক্কার সাহায্যে ২১ রান করেন তিনি।

প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটি গড়েন শান্ত ও সৌম্য। ৭১ রান যোগ করেন তারা। যদিও শুরুর দিতে দ্রুতগতিতে রান তুললেও শেষে রান তোলার গতি কমে যায় তাদের। শতক পার হওয়ার ঠিক আগে রশিদ খানের বলে এলবিডব্লিউ হন সৌম্য। ৪৯ বলে সমান দুইটি চার ও ছক্কায় ৩৫ রান করেন তিনি। ১৯ ওভারে ১০০ রান করে বাংলাদেশ। এরপর শান্তর সঙ্গে জুটি বাঁধেন মিরাজ। দুজনে দারুণ ব্যাট করতে থাকলেও দলীয় ১৫২ রানে ভাঙে জুটি। ৩৩ বলে ২২ রান করে রশিদ খানের বলে বোল্ড হন মিরাজ।

শান্তর সঙ্গে এরপর তাওহিদ হৃদয় জুটি বাঁধলেও সেটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১৭৪ রানে হৃদয়ের পতনের পর দেখা যায় মিনি ধস। ১৮৪ রানের মধ্যে ফেরেন শান্ত ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। ৭৫ বলে ফিফটি করা শান্ত থামেন ৭৬ রান করে। এজন্য অবশ্য তাকে খেলতে হয় ১১৯ বল। যেখানে ৬টি চারের সঙ্গে ছিল ১টি ছক্কার মার। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার নবম ফিফটি।

১৮৪ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারালেও বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের দিকে নিয়ে যায় সপ্তম উইকেটে নাসুম আহমেদ ও জাকের আলীর জুটি। শুরুটা ধীরে করলেও আস্তে আস্তে আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হন এই দুজন। ৪১ বলে তারা যোগ করেন ৪৬ রান। দলীয় ২৩০ রানে ফেরেন নাসুম। তার আগে ২৪ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় করে যান ২৫ রান। শেষের দিকে তাসকিনকে নিয়ে দলের সঙ্গে আরও ২২ রান যোগ করেন জাকের। তাতে ২৫২ রানে থামে টাইগাররা। ২৭ বলে ১টি চার ও ৩ ছক্কায় ৩৭ রান করে অপরাজিত থাকেন জাকের।

আফগানিস্তানের অন্যান্য বোলাররা যেখানে রান দেওয়ায় আজকে কৃপণতা দেখিয়েছেন, সেখানে বেশ উদার ছিলেন পেসার ফজলহক ফারকি। ৭ ওভার বোলিং করে কোনো উইকেট না পেলেও দিয়েছেন ৬৯ রান। ৮ ওভারে মাত্র ২৮ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার নানগেয়ালিয়া খারোটে। ১০ ওভার বল করে ২ উইকেট পাওয়া রশিদ খরচ করেছেন ৩২ রান আর গাজানাফার ৩৫ রান।