Home আঞ্চলিক বিএনপি নেতা জিকো হত্যা মামলার আসামী উপজেলা চেয়ারম্যান আকরাম গ্রেফতার

বিএনপি নেতা জিকো হত্যা মামলার আসামী উপজেলা চেয়ারম্যান আকরাম গ্রেফতার

152

স্টাফ রিপোর্টার।।

খুলনার ফুলতলায় বিএনপি নেতা শেখ সাজ্জাদুজ্জামান জিকো হত্যা মামলায় ফুলতলার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-৬ এর একটি দল।

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৬ এর অধিনায়ক অধিনায়ক লেঃ কর্নেল ফায়েজুল আরিফিন।

তিনি বলেন, গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া থেকে খুলনার ফুলতলায় বিএনপি নেতা শেখ সাজ্জাদুজ্জামান জিকো হত্যা মামলায় ফুলতলার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ আগষ্ট ফুলতলা থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান।

এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ৮৫ জন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করা হয় আরও ৪০০ জনকে।

মামলায় উল্লেখযোগ্য আরও আসামিরা হলেন, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, আব্দুস সালাম মুর্শিদী, শেখ হেলালের ভাই শেখ সোহেল উদ্দিন, শেখ রুবেল, শেখ বেলাল উদ্দিন বাবু, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, সাধারণ সম্পাদক এম ডি বাবুল রানা, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ এবং সাধারাণ সম্পাদক সুজিত কুমার অধিকারী।

এজাহার মতে, ২০২২ সালের ২২ অক্টোবর খুলনা নগরের ডাকবাংলার মোড়ে সোনালী ব্যাংক চত্বরে রাস্তার ওপর বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তাতে যোগ দিতে ফুলতলা উপজেলা বিএনপির প্রায় ২ হাজার নেতা-কর্মী সড়ক পথে রওনা হলে শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিকল্প নদীপথে ১০ টি ট্রলার ভাড়া করে ফুলতলার শিকিড়হাট থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তাঁরা দিঘলিয়ার থানা এলাকার চন্দনীমহল কাটাবনে পৌছালে শর্টগান, কাটারাইফেল, বন্দুক, রামদা, চাইনিস কুড়াল, রড, লোহার পাইপ, চাপাতি, বোমা ও লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর আক্রমন করে নেতাকর্মীদের মাথা ফাটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়। ওই হামলায় গুরুত্বর আহত হন ফুলতলা ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শেখ সাজ্জাদুজামান। তখন তাঁকে ফুলতলা উপজেলায় চিকিৎসাও করাতে দেয়নি আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এক মাস পর ২৪ নভেম্বর ফুলতলার পায়গ্রাম কসবা গ্রামে একটি ওষুধের দোকানে সাজ্জাদুজামান ডাক্তার দেখাতে গেলে পুনরায় তাঁর ওপর হামলা করা হয়। ওই সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাঁকে রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে ব্যাপক মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান সাজ্জাদুজামান।