Home আঞ্চলিক ‘তাজমহল’ খ্যাত চন্দ্রমহলে আগন্তুক নেই; বিনোদন বঞ্চনায় ব্যাবসায়ী মহল বিপাকে

‘তাজমহল’ খ্যাত চন্দ্রমহলে আগন্তুক নেই; বিনোদন বঞ্চনায় ব্যাবসায়ী মহল বিপাকে

46

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ

করোনাকালে আগন্তুক নেই বাংলার তাজমহল খ্যাত চন্দ্রমহলে। বিপাকে পড়েছে চন্দ্রমহলকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করা স্থানীয় ব্যাবসায়ী মহল। আগন্তুকহীন বিনোদন কেন্দ্র হারিয়ে ফেলছে তার জৌলুস। ভ্রমন পিপাসু মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে বিনোদন থেকে। করোনায় স্থবির পৃথিবীতে চন্দ্রমহলের কাহিনি তাই অনেকাংশে আরো করুন।

গেলো মার্চে ‘করোনা’ সতর্কতায় লাগাতার সাধারণ ছুটির প্রাক্কালে দেশের সকল বিনোদন কেন্দ্র বন্দ হওয়ার সাথে সংগতি রেখে চন্দ্রমহলও বন্দ করে দেওয়া হয়। আলোর সকাল থেকে কালোর সন্ধ্যা অব্দি যে মহলে ছিলো উচ্ছল প্রানের সরব উৎসব, সে মহলে এখন শ্মশানের নিরবতা। করোনা পরিস্থিতি আজ ভালো হয় কাল ভালো হয় করতে করতে সেই বন্দ গিয়ে ঠেকেছে ছয় মাসে।অপেক্ষার প্রহর গুনে গুনে চন্দ্রমহল ঘিরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের তালায় মরিচা ধরে গেছে। ব্যাবসায়ী মহলের জীবন গিয়ে ঠেকেছে অন্ধকারের তলানীতে। পরিবার পরিজন নিয়ে তারা না পারছে রাস্তায় দাঁড়াতে, না পারছে ভিন্ন পথে রোজগার করে সংসার চালাতে। বসে খেয়ে পুঁজি হারিয়ে তারা এখন মানবেতর দিনাতিপাত করছে।

সরেজমিনে জানা গেছে,চন্দ্রমহলের ভেতরে বাইরে পঞ্চাশটির মত বিভিন্ন ধরনের দোকান-পাট ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্থায়ী ওইসব দোকানের পাশাপাশি আরো কিছু অস্থায়ী ও ভাসমান দোকান বসতো আগে চন্দ্রমহলের  আশে পাশে। খুলনা মোংলা মহাসড়ক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দুরত্বে অবস্থিত এই বিনোদন কেন্দ্রটিতে আসা ও যাওয়ার প্রয়োজনে প্রায় পঞ্চাশটির মত ভ্যান চলাচল করতো চন্দ্রমহলের রাস্তা দিয়ে।করোনাকালীন বন্দে তারাও পড়েছে অভাবে।করোনার কড়াকড়ির মাঝে কর্মমুখর জীবনের একঘেয়েমি দুর করতে এখানে এখন বিনোদিত হবার সুযোগ নেই।মহলে বিনোদন প্রিয় মানুষের আনাগোনা নেই বলে ওখানে চাকুরীরতদেরও এখন প্রয়োজন নেই। সব কিছু মিলিয়ে চন্দ্রমহলে এখন মৃত্যুর নিরবতা।নিরব কান্নায় ভারী চন্দ্রমহলের চারপাশ আকাশ বাতাস।

মহলের গেটের দোকানদার রাসেল জানান ,”আমরা ব্যাবসায়ীরা যে বিপদের মধ্যে আছি তা বলার নয়।আমরা না পারছি হাত পাততে,না পারছি দোকান খুলে বসতে।দোকান খুলে রেখেও বা কি হবে ,মহলের তালা খোলার সাথেই আমাদের দোকান খোলা আর রুটি-রুজির সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। করোনায় কোনো কিছুই এখন বন্দ নেই। সীমিত আকারে বা করোনার বিধি মেনেই চলছে সব।এখন আমাদের মহলটি খোলার অনুমতি পেলেই ভাল হয়”।

চন্দ্রমহল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, পার্কটি  খোলার অনুমতি চেয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

সূত্রটি আরো জানিয়েছে,০৮ই আগষ্ট ২০২০ থেকে খুলনার রানা রিসোর্ট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ১৭ই আগষ্ট থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলে দেওয়া হবে বলে তারা জেনেছে। এমতাবস্থায় তারা দেশের সার্বিক সচলতার সাথে সংগতি রেখে করোনাবিধি মানার বাধ্যবাধকতায় হলেও ইকোপার্কটি খোলার অনুমতি চেয়েছে।

বাগেরহাট জেলার রঞ্জিতপুর গ্রামে তাজমহলের আদলে চমৎকার এক শৈল্পিক সৃষ্টি চন্দ্রমহল। ২০০২ সালে সৈয়দ আমানুল হুদা সেলিম তার স্ত্রী নাসিমা হুদা চন্দ্রের নামানুসারে প্রায় ৩০ একর জমির ওপরে এই ইকোপার্কটি তৈরি করেন।

ব্যাবসায়ী সহ এখানকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের জীবন জীবিকা,পর্যটন শিল্পের বিকাশ,কর্মময় জীবনের একঘেয়ে জড়োতা কাটাতে “একটু খানি বিনোদনকে” প্রাধান্য দিয়ে চন্দ্রমহলে পূনরায় প্রান ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতৃক যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহনই সময়োপযোগী বলে মনে করেন সচেতন মহল।

তাজমহল খ্যাত চন্দ্রমহল দেড়যুগ ধরে এলাকার সব শ্রেনীর সব বয়সী মানুষ সহ দেশী-বিদেশী পর্যটক ও ভ্রমন পিপাসুদের অবসরে এবং সারা বছরের বিভিন্ন উৎসবে বিনোদনের চাহিদা মিটিয়ে আসছে।

চন্দ্রমহল ইকোপার্কটি দর্শনার্থীদের জন্য আশু খোলার অনুমতি প্রসংগে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ এই প্রতিবেদক আসাদুজজামান আসাদকে জানান, গুরুত্বের সাথেই বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।